আর্জেন্টিনার শ্রেষ্ঠত্ব নাকি ডাচ রাজত্ব

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৪, ২২:৫০
রূপকথার গল্প দিয়ে শেষ হতে পারে এবারের বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ। আর কতবার কাঁদবে রানার্সআপ বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া ডাচরা। মেসি ভক্তদের উত্তর অবশ্য সোজা সাপটা,‘কাঁদুক না যতবার ইচ্ছে’। মেসির নেতৃত্বে ২৮ বছর পর শিরোপা আমাদের চা-ই, চাই’। বললেই তো আর হবে না! সহজে কি ছেড়ে দেবে রোবেন, ফন পার্সিরা। সাও পাওলো থেকে রিও ডি জেনেরিওর দূরত্ব বাসে সাড়ে চারশ’ কিলোমটাির। ১৩ জুলাই রিওর মারাকানার মঞ্চে যেতে এখনো অনেক বাকি। তার আগের ধাপেই শুরু হয়ে গেছে বিতর্ক। হ্যাঁ, এটা ফাইনালের চেয়েও বড় কিছু। শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। কথাটা আসছে এ কারণেই, ১৯৭৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে ডাচদের হারিয়ে প্রথমবারের মত শিরোপা ঘরে তুলেছিল ম্যারাডোনার দেশ। ডাচরা কান্নায় ভাসিয়েছিল বুক। যে কান্না কেঁদেছে তারা ১৯৭৪ ও ২০১০ সালে, পশ্চিম জার্মানি ও স্পেনের কাছে হেরে। তিনবার একই কান্না। এবার কি সাও পাওলোতে সে কান্না ফিরিয়ে দেবার পালা। আর্জেন্টিনার স্বাধীনতা দিবসের এই দিনে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সাও পাওলোর এরিনা কারিন্থিয়ান্সে আজ আবার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস। যে ম্যাচের উত্তেজনা সারাবিশ্বে। সাও পাওলোর রাস্তা, আকাশ-বাতাস ছাড়িয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বরে কাঁপছে ম্যারাডোনা আর মেসিভক্ত বাংলাদেশের কোটি মানুষ। লড়াইয়ে কে জিতবে ? মেসি নাকি রোবেন, হিগুয়েইন নাকি ফন পার্সি, আগুয়েরো না স্নেইডার ? উত্তরটা জমা থাক ফুটবল যুদ্ধের শেষ সময় পর্যন্ত। দুই ফেবারিটের লড়াইয়ের পরিসংখ্যানটা ভারি কিন্তু হতভাগা নেদারল্যান্ডসের দিকেই। বিশ্বকাপ ও আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচ মিলে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ৮ বার। চারবার জিতেছে তারা, আর্জেন্টাইনরা মাত্র একবার, তিন ম্যাচ ড্র। সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা গোল খেয়েছে ১৩টি, আর নেদারল্যান্ডস হজম করেছে মাত্র ৬ গোল। বিশ্বকাপে চারবারের দেখায় দুটিতেই জয় দ্যা অরেঞ্জদের। ২০০৬ সালে সর্বশেষ দেখায় গ্রুপ পর্বে কেউ জিতেনি, ০-০। দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তো মুখিয়ে আছে তৃতীয় শিরোপা জয়ের। হয়তো মেসির মত ভিন গ্রহের মহাতারকা দলে আছে বলেই। ১৯৮৬ সালের পর আর শিরোপার মুখ দেখেনি আর্জেন্টিনা। এরপর সর্বোচ্চ অর্জন ১৯৯০ সালে রানার্সআপ। গত আসরে কোয়ার্টার ফাইনালের গেরো পার হতে না পারা ম্যারাডোনার দেশ ২৮ বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে এখানে আঁটসাট বেঁধে নেমেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে কোস্টারিকার কাছে অবশ্য কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে রোবেন ফন পার্সিরা। কোস্টারিকার ডিফেন্সে গিয়ে বল সাইড বার, ক্রস বার হয়ে শেষ পর্যন্ত গোলকিপারের হাতে জমা পড়ে। ডিফেন্স ভাঙতে হিমশিম খেয়েছেন রোবেন, ফন পার্সিরা। ১২০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে নামা বদলি গোলরক্ষক টিম ক্রুল হিরো বনে যান দুটি শট সেভ করে। বাম পায়ের মাসলে ইনজুরির কারণে সার্জিও আগুয়েরো খেলতে পারেননি গত দুই ম্যাচে। ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ডকে আজ মেসির পাশে দেখা যাবে স্বরূপে। আগুয়েরো দলে না থাকলে চাপটা পড়ে মেসির উপর। এখন বোঝাটা হয়তো কিছুটা কমবে। দলের মাঝমাঠের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় আঞ্জেল ডি মারিয়াকে ছাড়াই নামতে হবে মেসিদের। গত ম্যাচে থাইয়ে ব্যথা পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গার। অবশ্য সময়মত জ্বলে উঠেছেন আরেক তারকা গঞ্জালো হিগুয়েইন। আগের চার ম্যাচে গোল পাননি গত বিশ্বকাপের একমাত্র হ্যাটট্রিকম্যান। ঠিক সময়ে এসে নিজের জাত চিনিয়েছেন। আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা এ নেপোলি স্ট্রাইকারের একমাত্র গোলে কোয়ার্টার ফাইনাল বাধা পার হয় আর্জেন্টিনা। ক্লাবের হয়ে তার ফর্মটা দুর্দান্ত। ৬ বছর রিয়াল মাদ্রিদে কাটিয়ে এ বছর খেলছেন নেপোলিতে। ম্যারাডোনার সাবেক ক্লাবের হয়ে মৌসুমে সব মিলিয়ে ২৪ গোল। কোপা ইতালিয়ান শিরোপা ঘরে তুলতে রেখেছেন বড় ভূমিকা। এবার কি পারবেন আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে? প্রথম তিন ম্যাচে ৪ গোল পেলেও গত দুই ম্যাচে গোল পাননি বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড মেসি। তিনিও কি জ্বলে উঠবেন। মাসচেরানো, লাভেজ্জিরাও হয়তো বৃথা সময় পার করবে না। কোচ লুই ফন গাল হয়তো স্বপ্ন আঁঁকছেন, তার হাত দিয়েই হাসবে ডাচরা।