গত কয়েকদিনে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার নিম্নাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ঝিনাইগাতীর প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গত ৩ দিনের অবিরাম বর্ষণ ও মহারশি, সোমেশ্বরী, কালঘোষা নদীর পানির তোড়ে নিচু এলাকার রাস্তা-ঘাট বিধ্বস্ত হবার পাশাপাশি পুকুর তলিয়ে অনেক মত্স্য চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতি বর্ষণের কারণে উপজেলার সর্বত্রই রাস্তা-ঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকদের বীজতলা। নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে নদীগুলোতে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলায় গারোপাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে চেল্লাখালি ও ভোগাই নদীর পানি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢলের পানি দ্রুত প্রবেশ করায় লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়ছে। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে পুকুর, সদ্য রোপা আউশ ধানের ক্ষেত, রোপা ধানের বীজতলাসহ অনেক সবজি ক্ষেত। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় ভোগাই নদীর পানি বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
প্রবল বর্ষণে ছাতকের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গত দু’দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে ছাতক উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ইসলামপুর, নোয়ারাই, চরমহল্লা, ভাতগাঁও, জাউয়া, সিংচাপইড়, উত্তর খুরমা, দক্ষিণ খুরমা, ছৈলা-আফজলাবাদ, কালারুকা, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, ছাতক সদর ও দোলারবাজার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় গ্রামীণ কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার সব ইউনিয়নেই রোপা আমন ধানের চারা তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। ছাতক-আন্ধারীগাঁও সড়কের পেপার মিল এলাকায় একটি সেতু ভাঙ্গার ফলে তৈরি করা বিকল্প সড়কটি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ সড়ক দিয়ে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ছাতক সদরের সাথে ছাতক সদর ইউনিয়নের একাংশ, উত্তর খুরমা, চরমহল্লা ও দোয়ারাবাজারের দোহালিয়া ও পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এদিকে বন্যার কারণে সুরমা নদীর দু’পাড়ে প্রায় ১০-১২টি স্টোন ক্রাশার মিল বন্ধ হয়ে গেছে। ছাতকে সুরমা ও পিয়াইন নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
