নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব হাজারো পরিবার

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৪, ২২:২৬
টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি ও ফসলের জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে কয়েক হাজার পরিবার। এছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে বিমানবন্দর, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, ব্রহ্মপুত্রে স্রোতের তীব্রতায় উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের সিংড়িয়া, উড়িয়া ইউনিয়নের কালাসোনা, রতনপুর, উত্তর উড়িয়া, গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী, নামাপাড়া, ফজলুপুর ইউনিয়নের কাউয়াবাঁধা, নিশ্চিন্তপুর, খাটিয়ামারী, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ সন্ন্যাসী, তিনথোপা, বুলবুলি, ঘাটুয়া, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সাতারকান্দি, পূর্ব রসুলপুর গ্রামসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তীব্র ভাঙ্গনে এসব গ্রামের কমপক্ষে ২ হাজার পরিবারের বসতভিটা, শতাধিক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অর্থাভাবে ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ঐসব পরিবারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বালির বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলে সিংড়িয়ায় ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭৬২ পবিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল এবং ১শ’ পরিবারের মাঝে ২শ’ করে নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া গত মঙ্গলবার ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জালাল জানান, নদী ভাঙ্গনে কয়েকদিনের মধ্যে ২৫০টি পরিবার তাদের ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। উড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরকার তার ইউনিয়নে ৩টি পয়েন্টে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে বলে জানান। নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় গত ৬ দিনে নদী ভাঙ্গনে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, শংকোষ, ফুলকুমার প্রভৃতি নদ-নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতি বছরের মত এবারও নদী ভাঙ্গনে অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও আবাদী জমি হারিয়ে জীবিকার তাগিদে চলে গেছে অন্যত্র। অনেকে মাথার উপর ছাদ টুকু না থাকায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। কেউ কেউ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর পরিবার নিয়ে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এদের বিশুদ্ধ পানির সমস্যা প্রকট। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ভাঙ্গন দুর্গত এ মানুষের ভাগ্যে জোটেনি এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোন সহায়তা। বাবুগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, আড়িয়াল খাঁ, সুগন্ধা ও সন্ধ্যা নদীর ক্রমাগত ভাঙ্গনে হুমকির মুখে রয়েছে বরিশাল বিমানবন্দর, দোয়ারিকা সেতু, বাবুগঞ্জ বাজার এবং নদী তীরবর্তী এলাকার সহস াধিক পরিবার। ঐসব পরিবারের সদস্যদের এখন চরম আতঙ্কে দিন-রাত অতিবাহিত করতে হচ্ছে। অনেকে এরই মধ্যে বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। ঐ তিন নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে গত কয়েক বছরে নিঃস্ব হয়েছে এ উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার। নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে শত শত একর আবাদী জমি, গাছপালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কিন্তু প্রতি বছরই সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনে এসে শুধু সাধারণ মানুষকে ভাঙ্গন প্রতিরোধের আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন। বাস্তবে কিছুই হচ্ছে না। সরেজমিন দেখা গেছে, রাক্ষুসি নদীগুলোর তাণ্ডবে মীরগঞ্জ বাজার, ফেরিঘাট, বরিশাল বিমানবন্দর, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (দোয়ারিকা) সেতু, শত বছরের ঐকিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজার, আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগার এখন চরম হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এসব সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।