বিশ্বকাপ থেকে শুরু ছিটকেই গেলেন না অস্কার ফ্রেড, দাভিদ লুইজ, দাতেরা প্যাচে ফেলে দিয়ে গেলেন প্রেসিডেন্ট দিলমা রুফেসকেও। ব্রাজিলের অকাল বিদায়ে ফের অনিশ্চয়তার মুখে গোটা দেশ। লজ্জায় মুখ ঢেকেছে প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট পদ থেকে দিলমা রুসেফের অপসারণ চেয়ে রাজধানী ব্রাসিলিয়ার পথে নেমেছেন মানুষ। দিলমার নিন্দায় বিক্ষোভ চলছে সাও পাওলো, রিও ডি জেনেইরো, বেলো হরাইজন্তের মতো শহরেও। গত ২৪ ঘন্টায় দাঙ্গাসম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশটায়। শুধুমাত্র সাও পাওলোতেই পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ২০টি বাস। লুটপাট চলেছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দোকানগুলোত। রিও ডি জেনেইরোর কোপাকাবানার সৈকতে বিক্ষোভরত মানুষকে ছত্রভঙ্গ করতে মরিচগুঁড়া স্প্রে করেছে পুলিশ। সাও পাওলোতে ব্রাজিলের পতাকা পোড়াতে দেখা যায় একদল বিক্ষুব্ধকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে হয় পুলিশকে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে গেলে অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয় সালভাদর ফ্যান ফেস্টে। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হয় শহরগুলোতে। -খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এই ক্ষোভ অবশ্য নতুন কিছু নয়। বিশ্বকাপ আয়োজনের আভাস মিলতেই বিক্ষোভ দানা বাঁধছিল অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত দেশটিতে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশজুড়ে যখন সাজো সাজো রব, তখন ‘খাবার চাই ফুটবল নয়’, স্লোগান মুখে পথে নেমেছিলেন হাজারো মানুষ। স্টেডিয়ামগুলো সাজাতে বিদেশি পর্যটকদের থাকা খাওয়ার পরিকাঠামো উন্নয়নে যখন কোটি কোটি ডলার খরচ করছিল সরকার, তখন স্বাস্থ্য-শিক্ষার অধিকারের দাবিতে অনশন করছিলেন ব্রাজিলের সাধারণ মানুষ। পুলিশের লাঠি আর নেইমার বাহিনীর প্রাথমিক জয়যাত্রায় অবশ্য সেই বিক্ষোভের আগুন ছাইচাপা পড়ে যায়। প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ সদর্পে ঘোষণা করেন, বিশ্বকাপ আয়োজনে এক কোটি দশ লাখ ডলার খরচ করতে চলেছে তার সরকার, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ।
চলতি বছর অক্টোবরেই ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দিলমা আশা করেছিলেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমেই ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি। দিলমার আশ্বাস ছিল, কাপের পর কাপ আসবে দেশে। গত ১২ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ এবং তার পর থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত ব্রাজিলের দৌড়ে ক্রমে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছিলেন দিলমা এবং তার অনুগামী রাজনৈতিক মহল। ৭-১-এ হারের পর অবশ্য সুর নরম হয়েছে তাদের। টুইটার প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ব্রাজিলের হারে খুবই দুঃখিত আমি। তবে বলব, জেগে ওঠো ব্রাজিল, ধূলো ঝেড়ে ফেল, নিজের পায়ে দাঁড়াও। আগামী সোমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার পরেই শুরু হয়ে যাবে দিলমার নির্বাচনী প্রচার। ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই।
