উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে গাইবান্ধার সাঘাটা এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ব্যাপক নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে অব্যাহত ভাঙ্গনে সাঘাটার হলদিয়া ইউনিয়নে উত্তর দিঘলকান্দি ও পাতিলাবাড়ি এবং ফুলছড়ির বধ্যভূমি, কাঁইয়ারহাট, বালাসি, সিংড়িয়া, রতনপুুর এবং কাতলামারি এলাকায় শতাধিক বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এছাড়া পাতিলাবাড়ি আশ্রয়ন প্রকল্প এবং দিঘলকান্দি বাজারটি এখন ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে। অপরদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামে তিস্তার নদীর ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।
সিংড়িয়া বাজার এলাকা থেকে কাতলামারি পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গনের তীব্রতার কারণে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি হুমকির মুখে। নদী থেকে বাঁধের দূরত্ব ২০ থেকে ২৫ মিটারের মধ্যে চলে এসেছে। ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে গাইবান্ধাসহ পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি পানির নীচে নিমজ্জিত হয়ে পড়বে। এদিকে যমুনার অব্যাহত ভাঙ্গনের মুখে সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দীঘলকান্দি বাজারটির শেডগুলো ইতিমধ্যে নিলামে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ফুলছড়ির উড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ জানান, উড়িয়া ইউনিয়নে ৩টি পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙ্গনে গত এক সপ্তাহে অর্ধশতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়েছে। ফজলুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, গত এক সপ্তাহে ফজলুপুর ইউনিয়নের ৩০টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে।
ওই দুই চেয়ারম্যান আরো জানান, নদী ভাঙ্গন পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল মিয়া জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ওই এলাকায় বালি ভর্তি জিও ব্যাগ নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে।
