টানা চারদিনের বিমান হামলায় প্রায় একশ’ ফিলিস্তিনী নিহত, আহত ছয় শতাধিক
গাজায় ইসরাইল ও ফিলিস্তিনকে যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এদিকে, ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় শ’খানেক ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে।
গাজায় ইসরাইল ও ফিলিস্তিনকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরী সভায় তিনি দুই পক্ষকেই ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করে বলেন, অত্যধিক শক্তি প্রয়োগ অগ্রহণযোগ্য যার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে বেসামরিক নাগরিকদের। তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও পুরোমাত্রায় যুদ্ধে দেখতে চান না তিনি। ইসরাইল—ফিলিস্তিনের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ বহনের ক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের নেই
এদিকে, গাজায় ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি একথা বলেন। ওবামা নেতানিয়াহুকে বলেন, চলমান নিষ্ঠুরতায় বিরতি আনতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি নিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ২০১২ সালের নভেম্বরে করা দেশ দু’টির মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আবারও বলবত্ করতে তত্পর হতে চাইছেন তিনি। পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে মোড় নেয়ার ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে যেকোন উদ্যোগ নিতে সঙ্কোচ করবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় হামলা আরো বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। ওবামার সঙ্গে কথোপকথনের পূর্বে নেতানিয়াহু গাজায় ইসরাইলী হামলা সম্পর্কে বলেন, এ যুদ্ধ পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে এবং আরও অনেক ধাপ এখনও বাকি আছে। নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দেন, হামাসের কয়েকটি ঘাঁটিতে বেশ শক্ত হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার প্রকোপ আরো বাড়বে।
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে গাজায় ইসরাইলী বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রায় শ’খানেক মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরো প্রায় ছয়শ’ ফিলিস্তিনী। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে গাজায় গতকাল শুক্রবারও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত ছিল। এদিন হামলায় এক নারীসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছে। ইসরাইলের এই সর্বাত্মক বিমান হামলায় গাজায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেখানে ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। রাস্তায় শুধুমাত্র দেখা যাচ্ছে এ্যাম্বুলেন্স, দোকানপাট বেশিরভাগই বিধ্বস্ত। যদিও ইসরাইলের পক্ষ থেকে হামাস সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাবি করা হলেও এসব হামলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে গাজার বেসামরিক নাগরিকরাই হতাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষ।
