কুমিল্লার লাকসামে চাঁন মিয়া নামের শ্বশুরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন পুত্রবধূ তাসলিমা আক্তার। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউপি’র আশকামতা গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনা নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তাসলিমার স্বামী বিল্লাল হোসেন ঢাকায় একটি বিস্কুট কারখানায় কাজ করে। ৩ সন্তান নিয়ে তাসলিমা তার শ্বশুর বাড়ীতে থাকে। তাসলিমা জানান, ৬ মাস পূর্বে তার শাশুড়ী মারা যান। এরপর থেকে তার শ্বশুর চাঁন মিয়া তাকে প্রায় উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার শ্বশুর তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। এসময় তিনি শ্বশুরের বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকে আঘাত করে এবং লিঙ্গ কেটে দেয়। তবে নিহত রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী চাঁন মিয়ার ছোট ছেলে বাবুল মিয়া অভিযোগ করেন, ওই রাতে তাসলিমা আক্তার অজ্ঞাত কয়েক ব্যক্তির সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হলে তার বাবা দেখে ফেলে। এতে একপর্যায়ে তাসলিমা ও তার সঙ্গে থাকা দুই-তিনজন অজ্ঞাত পুরুষ তার বাবার উপর হামলা চালায়। তারা চাঁন মিয়ার বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত ও পুরুষাঙ্গ কেটে তাকে হত্যা করে। শুক্রবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ব্যাপারে তাসলিমা আক্তারকে (৩৫) প্রধান আসামি করে শুক্রবার লাকসাম থানায় দেবর বাবুল মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। লাকসাম থানার ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।
