ভোলার চরফ্যাশনে নদীভাঙ্গনে বিলীন সাড়ে ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ না করায় পূর্ণিমার ভারী জোয়ারে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের শতশত ঘরবাড়ি পানিমগ্ন হয়ে পড়েছে। পানিতে ডুবে গেছে মাছ ও শস্য খামার। স্রোতে ভেঙ্গে গেছে পাকারাস্তা। আকষ্মিক বিপর্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।
প্লাবিত এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানান, গতকাল ১০টার পর থেকে পানি বাড়তে থাকে। দুপুর পর্যন্ত পাকা রাস্তা, হাট-বাজার এবং বসত ভিটার উপর দিয়ে পানি গড়াতে থাকে। জোয়ারের টানে মাদ্রাজ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর, হামিদপুর, চর নিউটন, চর আফজাল, পূর্বমাদ্রাজ, মিয়াজানপুর, আসলামপুর ইউনিয়নের আয়েশাবাগ ও আসলামপুর, জাহানপুর ইউনিয়নের ওমরাবাজ ও জাহানপুর এবং হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব হাজারীগঞ্জ এবং হাজারীগঞ্জ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের শত শত পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। সব ধরনের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
চর আফজাল গ্রামের তরকারী খামারের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৪০ শতাংশ জমির শসার ক্ষেত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পূর্বমাদ্রাজ গ্রামের গৃহিনী বিধবা মাফিয়া জানান, ভিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় রান্না করার সুযোগ নেই। মেঘনা পাড়ের সাড়ে ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনঃ নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ে করতে না পারায় পূর্বাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
গত বছর মেঘনার ভাঙ্গনে চরমাদ্রাজ এলাকার সাড়ে ৪ কিমি বেড়িবাঁধ বিলীন হয়। এটি পুনঃনির্মাণের জন্য গত মার্চ মাসে প্রথম দরপত্র আহবান করা হলেও পরবর্তীতে তা স্থগিত করা হয়। গত এপ্রিল মাসে মাদ্রাজের সাড়ে ৪ কি.মি. বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণের জন্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকার পুনঃ দরপত্র আহবান করা হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২’র নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম জানান, পূর্ণিমার জোয়ারে এ সমস্যা হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আখন গতকাল দুপুরের পর মাদ্রাজের প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে জনগণ দুর্ভোগে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোর্ডকে আগে থেকে সতর্ক করা হলেও তারা তা আমলে নেয়নি।
