সয়াবিন তেলের সাথে প্যারাফিন, রং ও সুগন্ধি মিশিয়ে তৈরি করা হয় কদুর তেল। এই তেল বাজারের বিভিন্ন নামী-দামী ব্র্যান্ডের মোড়কে ভরে বাজারজাত করা হয়। গতকাল র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এইচএম আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এই নকল কদুর তেলের কারখানার সন্ধান পান। নকল তেল তৈরি করার অভিযোগে কারখানার মালিক মোহাম্মদ হোসেনকে ১ বছরের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়।
আনোয়ার পাশা জানান, সকাল ১০টার দিকে পুরান ঢাকার ৬/১৫ চম্পাটুলী লেনের বাসার দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালায় র্যাব। সেখান থেকে কুলসুন, আলাউদ্দিন, বনফুলসহ বিভিন্ন ব্যান্ডের নকল সেমাই জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় কারখানার মালিক কাজী সুমনকে। কাজী সুমন র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি ৩৫ টাকা কেজিতে বিভিন্ন নিম্নমানের সেমাই কিনে আনেন। এরপর দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সেমাইয়ের প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করেন। প্যাকেটের গায়ে ২০০ গ্রাম লেখা থাকলেও সেমাই দেয়া হয় ১৫০ গ্রাম। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে দোষ স্বীকারের পর তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত বছরও তাকে একই অপরাধে দণ্ড দেয়া হয়েছিলো। চম্পাটুলী লেনের পাশে ছোট কাটরার ৩/৪ নম্বর বাড়িতে আরেকটি সেমাই কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১০০ মণ নকল সেমাই উদ্ধার করা হয়।
নকল সেমাই তৈরি অভিযোগে কারখানার ম্যানেজার আব্দুল হাইকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরো জানান, চম্পাটুলী লেনের ৬/১৫ নম্বর বাড়ির আরেকটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল প্রসাধন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। সেখানে কারখানার মালিক মোহাম্মদ হোসেন সয়াবিন তেলের সাথে প্যারাফিন, রং ও সুগন্ধি মিশিয়ে মাথা ঠাণ্ডা রাখার কদুর তেল তৈরি করছিলেন। মোহাম্মদ হোসেন জানান, ১৫ বছর ধরে তিনি এভাবে কদুর তেল তৈরি করে বাজারের তিব্বত কদুর তেল ও পদ্মরাগ কদুর তেলের মোড়কে বাজারজাত করছেন। এই তেল ব্যবহার করলে চুল আঠা হওয়া ও পরে ঝরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে বলে তার পরিবারের কেউ তা ব্যবহার করেন না। নকল প্রসাধন সামগ্রী তৈরির কথা স্বীকার পর তাকে এক বছরের জেল ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
