সমুদ্রসীমার রায় দু’দেশের জেলেদের জন্য সুখবর

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৮
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যেকার চার দশকের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করে গত সপ্তাহে রায় দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত স্থায়ী সালিস আদালত (পিসিএ)। এ রায় দুই দেশের মত্স্য শিকারীদের জন্য সুসংবাদ বয়ে এনেছে। তারা এখন মাছ ধরার জন্য অনেক বৃহত্ এলাকা পর্যন্ত বিচরণ করতে পারবে বলে রবিবার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জাতিসংঘের এই ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরের বিরোধপূর্ণ ২৫ হাজার ৬০২ বর্গ কিলোমিটার অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকার অধিকারী হয়েছে বাংলাদেশ। এর বাইরে মহীসোপান অঞ্চলে বাংলাদেশ নিরঙ্কুশ ও সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত করেছে। তাহলে কি ভারত এ রায়ে হেরেছে? তবে এ বিষয়ে ভারত সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে ভিন্ন কথা। এই সমুদ্রসীমা নির্ধারণের ধরনটি অনেকটা অযৌক্তিক মনে করলেও ভারত বলছে এর মাধ্যমে তাদের হার হয়নি। বরং এ রায়ের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ নিউ মুর দ্বীপের (দক্ষিণ তালপট্টি) উপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া হাড়িয়াভাঙ্গা নদীতে সম প্রবেশাধিকার ভারতের জন্য এক তাত্পর্যপূর্ণ অর্জন। নিউ মুর দ্বীপ তেল ও গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। যে কারণে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে বিরোধ ছিলো। যদিও দুই দেশের সরকার রায়কে উইন-উইন পর্যায়ের বলে দাবি করেছে। মঙ্গলবার রায় প্রকাশের সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েরই বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। এই বিজয় বন্ধুত্বের বিজয়। দুই দেশের জনগণের বিজয়। চার দশক ধরে যে সমস্যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে বাধা সৃষ্টি করছিল, আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে তার শান্তিপূর্ণ সমাধান হলো। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক আরো বৃদ্ধি করবে। এর ফলে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হবে এবং উভয় দেশ উপকৃত হবে।