পদ্মা-মেঘনায় আষাঢ় শেষেও ইলিশের দেখা নেই

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৫
আষাঢ় গিয়ে শ্রাবণ মাস চলে এলেও জেলার পদ্মা ও মেঘনায় ইলিশের দেখা মিলছে না। বরিশাল-চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জ সীমান্ত ঘেরা শরীয়তপুর জেলা। এ জেলার জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলার পদ্মা ও মেঘনা পাড়ের ১৪ হাজার জেলে পরিবার বাস করে। তাদের জীবিকা চলে নদীতে মাছ ধরে। এ বছর নদীতে মাছ না পাওয়ায় এসব পরিবারে বিরাজ করছে নীরব হাহাকার। ইলিশের দেখা না পাওয়ায় তাদের সংসার চলছে না। শরীয়তপুর জেলার পদ্মা ও মেঘনার পাড় ঘুরে দেখা গেছে অনেক জেলে পরিবারের সন্তানদের বিদ্যালয়ে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। এনজিও কিস্তি আর মহাজনের দেনার ভয়ে জেলে ও মাঝি-মাল্লারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া স্টেশন বাজারের জেলে নৌকার মহাজন হাবিব মাঝি বলেন, একবার জাল-জেলে নিয়ে মাছ ধরার জন্য নদীতে যেতে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। আর জেলেদের ফিরতে হয় শূন্য হাতে। চরসেন্সাস ইউনিয়নের নরসিংহপুর আড়ত্ ঘরে মহাজন লাল মিয়া দিদার বলেন, সরকারের নিষেধ অমান্য করে জাটকা শিকার করায় ইলিশের ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। জেলেদের এ দুর্গতির জন্য তারাই দায়ী। গোসাইরহাট উপজেলার চরজালালপুর ও মাঝের চরের আড়ত্দার আলমগীর মেম্বার বলেন, আমরা জেলেদের পিছনে হাজার হাজার টাকা বিনিয়োগ করি। মাছের মৌসুমে মাছ দিয়ে তাদের দেনা শোধ করার কথা। কিন্তু এখন নদীতে মাছ না পেয়ে জেলেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া মুন্সী কান্দি গ্রামের ছালাম দাড়িয়া বলেন, আমরা নদীতে মাছ না পাওয়ায় অনেক কষ্টে আছি। আমাদের কষ্ট শোনার বা দেখার কেউ নেই। সরকার জাটকা রক্ষায় অনেক উদ্যোগ নিলেও ফল পাওয়া যাচ্ছে না।