ক্যারিয়ারের শুরুতে মুস্তাফিজুর রহমানের মূল অস্ত্র ছিল ‘কাটার’। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বছর খানেক পার করতেই বাঁহাতি এই পেসারের বোলিংয়ে গতির ঝড়ও দেখা গিয়েছিল। ১৪০ কিমি. গতিতে বোলিং করতে দেখা গিয়েছিল মুস্তাফিজকে।
এরপর চোটের ছোবলে এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল বল হাতে তার ছন্দ। গতিও কমে এসেছিল। ভারতের বিরুদ্ধে মঙ্গলবারের প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি মুস্তাফিজকে তার চেনা ছন্দে পাওয়া।
নতুন বলে বোলিং করেছেন। উইকেট নিয়েছেন। বলা চলে সেটআপ করে ধাওয়ানকে এলবির ফাঁদে ফেলেছেন। বোলিংয়ের সময় গতি তুলেছেন ১৪০ কিমি. তে। ৮ ওভারে ১ মেডেনসহ ৪৩ রানে এক উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। আর অনুজের এই রূপ দেখেই স্বস্তিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। মঙ্গলবার প্রস্তুতি ম্যাচের পর বিডিনিউজকে এমনটাই জানিয়েছেন মাশরাফি।
প্রস্তুতি ম্যাচে শুরুটা ভালো করেছিলেন পেসাররা। ১০২ রানে ভারতের চার ব্যাটসম্যানকে ফেরত পাঠিয়েছেন মুস্তাফিজ-রুবেল-সাইফউদ্দিনরা। নড়াইল এক্সপ্রেস বলেছেন, ‘আয়ারল্যান্ডে নতুন বলে আমরা সেভাবে উইকেট নিতে পারিনি। তাই পেস বোলিংয়ে ভালো শুরুর ইচ্ছে ছিল। মুস্তাফিজ দুর্দান্ত বোলিং করেছে। আমি চেষ্টা করেছি। রুবেল ও সাইফের কাছ থেকে যা চেয়েছি, অনেকটাই পেয়েছি।’
আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজেও মুস্তাফিজ নতুন বলে বোলিং করেননি। বল করেছিলেন মাশরাফি ও সাইফউদ্দিন। ভারতের বিপক্ষে কার্ডিফে মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। সেটাও পরিকল্পনা করেই। বিডিনিউজকে মাশরাফি বলেছেন, ‘আমাদের মনে হয়েছে, নতুন বলে উইকেট নেওয়ার মতো একজনকে দরকার। এই জায়গায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছিল। মুস্তাফিজ আজ কাজটা দারুণভাবে করেছে। বেশি স্বস্তি পাচ্ছি যে, সে তার পুরোনো গতির অনেকটা ফিরে পেয়েছে। ১৪০ কিলোমিটার তুলেছে গতি। মুস্তাফিজ নিজের মতো বোলিং করলে আমাদের বোলিংয়ের ধারই অন্যরকম।’
ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের বিরুদ্ধে ইনিংসের শুরুতে মাশরাফি-মুস্তাফিজ জুটির সফলতা স্বস্তিদায়ক টিম ম্যানেজমেন্টের জন্যও। বিশ্বকাপে তাই নতুন বলে তাদের দুজনকেই দেখা যেতে পারে।
ব্যাটিংটা খুব ভালো না হলেও মুশফিক-লিটনের হাফ সেঞ্চুরি ছিল ইতিবাচক। মাশরাফি বলেছেন, ‘মুশফিক ভালো খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে, যেটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। লিটন নিজের কাজ করে রাখছে। দুজনই সেঞ্চুরি করলে ভালো লাগত। রিয়াদ আর কিছু সময় টিকলে হয়তো আমরা তিনশ করতে পারতাম। তবে খুবই হাই কোয়ালিটি বোলিং খেলেছি আমরা, যে প্র্যাকটিস খুব কাজে দেবে।’
রান তাড়া করতে নেমে তিনবার জোড়ায় জোড়ায় উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। শুরুতে সৌম্য-সাকিব, লিটন-মিঠুন, মুশফিক-মোসাদ্দেকরা পরপর দুই বলের মাঝে আউট হয়েছেন। তাতেই তিনশ রান করার প্রয়াসটা বাস্তবে রূপ পায়নি। বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেছেন, ‘জোড়ায় জোড়ায় উইকেট হারালে সাড়ে তিনশ তাড়া করা কঠিন। লিটন ও মুশফিক সেট হওয়ার পর মারতে শুরু করেছিল। তখনই দুজন আউট হয়ে গেছে। সাকিব-মিঠুন দুজনই প্রথম ডেলিভারিটি অসাধারণ পেয়ে আউট হয়ে গেছে।’
ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্পিনাররা ছিলেন সাদামাটা। খরুচে ছিলেন সবাই। অবশ্য তা নিয়ে ভাবিত নন মাশরাফি। তিনি বলেছেন, ‘সাকিবের একটি বাজে দিন গেছে। তবে দারুণভাবে ফেরার মতো অভিজ্ঞতা তার আছে। আমার বিশ্বাস, এবারের বিশ্বকাপে সে দারুণ কিছু করবে। মিরাজও গত কিছুদিনে ভালো করেছে। মোসাদ্দেকের বোলিং ফিগার দেখে খুব খরুচে মনে হলেও ওর শুরুটা খারাপ ছিল না।’
