দুর্গাপুরে দুঃস্থদের চাল যাচ্ছে বিত্তবানদের ঘরে

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৪, ২০:৫৭
জেলার দুর্গাপুরে ঈদ-উল ফিতর ও রমজান উপলক্ষ্যে দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিত্তবানদের দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া টাকার বিনিময়ে তালিকা তৈরিসহ চাল ওজনে কম দেয়া এবং একই ব্যক্তির নামে দুইবার চাল বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় মৃত ব্যক্তিকে তালিকায় জীবিত দেখিয়েও চাল উত্তোলন করা হয়েছে। গত রবিবার সকাল থেকে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ হতে ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ১ হাজার ২৯ জন দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জন প্রতি ১০ কেজি করে সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়। বিতরণের তালিকায় নাম থাকার পরেও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ইউপি সদস্যর কাছে ধর্না দিয়েও চাল না নিয়েই ফিরতে হয়েছে অনেক দুস্থ ও অসহায় মানুষকে। দেলুয়াবাড়ী ইউপির ৬নং ওয়ার্ডে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ১০০টি দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে সরকার প্রদত্ত চাল বিতরণের লক্ষ্যে তালিকা তৈরি করার কথা থাকলেও তিনি ১১৮ জনের নাম তালিকায় দেখিয়েছেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম। তিনি এ তালিকায় বিত্তবান ও প্রবাসী ব্যক্তির পরিবারের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। জানা গেছে, মালয়েশিয়া প্রবাসী প্রভাবশালী আজিজুল ইসলাম দেলুয়াবাড়ি গ্রামে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ইটের ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণ করছেন। দুস্থদের চালের তালিকায় রয়েছে তার স্ত্রী শরিফা বেগমের নাম। এর আগেও তিনি চাল উত্তোলন করেছেন। তিনি ছাড়াও একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আলেপের স্ত্রী হাজেরা বেগম ও সৌদি প্রবাসী আবদুর রশিদের স্ত্রী সানোরা বেগমসহ অনেক বিত্তবানের নাম রয়েছে । এছাড়া ক্ষিদ্র লক্ষিপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের এক বছর মৃত স্ত্রী মাহেদা বেওয়ার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সেই চাল উত্তোলন করেন ইউপি সদস্য নজরুল নিজেই আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার ক্রমিক নম্বর ৯৬৮। সোমবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণের তালিকা ও মাষ্টার রোল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১০৩৬ থেকে ১০৪২ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বরগুলো দুইবার ব্যবহার করে উল্লেখিত নম্বরের ব্যক্তিদের নামে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত দুস্থদের তালিকা তৈরি করে ইউনিয়ন পরিষদে দাখিল করেছি। কিন্তু বিতরণের জন্য মনোনীত চূড়ান্ত তালিকায় অনেকের নাম নেই। চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকার পরও চাল না পেয়ে অনেকেই বাড়ি ফিরেছেন।