খুলনা রেলে দু’বছরে ৬৩ হাজার যাত্রী হ্রাস

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৬
ভাড়া বৃদ্ধির পর খুলনা রেলে যাত্রী সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। গত দুই অর্থ বছরে প্রায় ৬৩ হাজার যাত্রী কমে গেছে। সেবার মান খারাপ থাকার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি যাত্রীদের। তবে বিগত সময়ের চেয়ে বর্তমানে খুলনা রেলওয়ের আয় বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ট্রেন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা, অপরিচ্ছন্ন রেল স্টেশন এবং ট্রেনের নোংরা কামরা ও টয়লেটসহ নানা অব্যবস্থাপনা যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার মূল কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২০১১-১২ অর্থ বছরে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটে ট্রেনের যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৬৩ হাজার ২৯২ জন। এসময় যাত্রীদের কাছ থেকে রেলের আয় হয় ১০ কোটি ৪২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৯৬ টাকা। এছাড়া ৬৮ লাখ ৫৩ হাজার ৮১০ কেজি পণ্য পরিবহন করে রেল আয় করে আরও ৩৮ লাখ ৬ হাজার ৫৭৯ টাকা। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৭ জন যাত্রী রেল ভ্রমণ করেন। তাদের কাছ থেকে রেল আয় করেছে ১৫ কোটি ৫৪ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩৮ টাকা। এছাড়া পণ্য পরিবহন করে বিদায়ী অর্থ বছরে খুলনা থেকে রেলওয়ে আয় করেছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৩১ টাকা। সূত্র মতে, ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ২০১১-১২ অর্থ বছরের তুলনায় ২০১২-১৩ অর্থ বছরে যাত্রীর সংখ্যা কমেছে ১২ হাজার ৮৪৫ জন। এছাড়া ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে যাত্রীসংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৩৯১ জন। এ বছর যাত্রী কমেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৬ জন। এ বছর যাত্রী খাতে আয় হয়েছে ১৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৭ টাকা। এছাড়া মালামাল বহন করে আয় হয়েছে ১৬ কোটি ২১ লাখ ৪৩ হাজার ২৫৮ টাকা। গত দু’বছরে গড়ে যাত্রী কমেছে প্রায় ৬৩ হাজার। ২০১২ সালের আগস্টে সরকার প্রায় ৯৬ শতাংশ হারে ভাড়া বৃদ্ধি করে। এতে রেলের আয় বাড়লেও যাত্রী কমেছে। খুলনা থেকে নিয়মিত ১০টি ট্রেন যাতায়াত করে ৫টি রুটে। এর মধ্যে দুটি ট্রেন খুলনা থেকে রাজধানী ঢাকা যাতায়াত করে। বাকি ট্রেনগুলো চলে বেনাপোল, রাজশাহী, সৈয়দপুর, বিশাহাটিসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। এগুলোর মধ্যে রূপসা, সুন্দরবন, গোধূলী, নকশীকাঁথা, কপোতাক্ষ নামের ট্রেনগুলো আন্তঃনগর ট্রেন হিসাবে যাতায়াত করে। এদিকে যাত্রী কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনার নাগরিক নেতৃবৃন্দ। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, রেল হচ্ছে রাষ্ট্রের সেবাখাত। জনগণের সুবিধার দিক বিবেচনায় রেখে এখাতে সরকারের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। যেভাবে যাত্রী কমছে তা খুলনার জন্য উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, যেসব সমস্যা রয়েছে এগুলো সমাধান করে যাত্রী সেবা বাড়ানো প্রয়োজন। খুলনা রেলের কয়েকজন যাত্রী বলেন, খুলনা রেল স্টেশন ভবনের অবস্থা জরাজীর্ণ। যাত্রীদের বিশ্রাম নেয়ার কোন সুব্যবস্থা নেই। নগরীর পাওয়ার হাউস মোড় থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত সড়কে থাকে দীর্ঘ যানজট। স্টেশনে ঢোকার মুখে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা দুর্গন্ধ ছড়ায় সবসময়। ট্রেনের ভেতরের ফ্যানগুলো অকেজো, টয়লেট নোংরা, বাথরুমে পানি থাকে না। নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এসব ট্রেন। এ ব্যাপারে খুলনা রেল স্টেশনের মাস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, খুলনা রেলওয়েতে লোকবল কম থাকায় যাত্রীদের সঠিক সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরও আমরা যাত্রীদের সেবার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছি।