ঢাকার সঙ্গে বরিশাল বিভাগের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ। আর এ পথ দিয়ে লঞ্চে যাত্রী সাধারণেরা একটি মাত্র সিঁড়ি দিয়ে লঞ্চে ওঠা-নামা করে থাকেন এবং ওঠা নামার সময় সিঁড়িটি কাঁপতে থাকে। কিছু বললে লঞ্চের সারেং-সুকানি ও লস্করা খেপে উঠে বলেন— উঠলে ওঠেন না উঠলে যান। শিশু-কিশোর বা মহিলা যাত্রীরা ঐ সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামার সময় ভয়ে চিত্কার করতে থাকে। লঞ্চের সিঁড়ির নিচে পানি থৈথৈ করে এবং নিচে তাকালে সত্যি ভয় করে। প্রায় লঞ্চের সিঁড়িগুলো লক্কর ঝক্কর মার্কা। সিঁড়িটি রশি দিয়ে ভালোভাব বাধা হয় না। এছাড়া টার্মিনালে কুলিদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে এবং অবৈধ লোকের উত্পাশ ও দোকানপাট বৃদ্ধিতে লঞ্চে ওঠা-নামা করা দায় হয়ে পড়েছে। লঞ্চে হোটেলের পারিপার্শ্বিক অবস্থা নোংরা। যাত্রাপথে দুর্ভাগ্যক্রমে কোনো যাত্রীর প্রাথমিক চিকিত্সার প্রয়োজন হয়ে পড়লে কোনো ব্যবস্থা নেই। দেশের লঞ্চগুলোতে আজ শুধু মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা হয় না তার থেকেও বেশি মালামাল বহন করা হয়। লঞ্চযাত্রীদের আজ নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। লঞ্চে বিশুদ্ধ পানি, ভালো খাবার সরবরাহ, প্রাথমিক চিকিত্সার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত পণ্য বহন করার প্রবণতা বন্ধ, লঞ্চে ওঠা-নামার সময় সিঁড়ির মাথায় একটি হাতল বা বাঁশের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ডুবন্ত লঞ্চ উদ্ধারের জন্য আধুনিক সরঞ্জামাদি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী,
১৩১ পশ্চিম ধানমন্ডি,
ঢাকা ১২০৯
