স্পোর্টস রিপোর্টার
তিনি যে আধুনিক ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান— সে নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অনেকে তো তাকে রীতিমত স্যার ডন ব্র্যাডম্যানেরও আগে রাখেন। তিনি হলেন শচিন টেন্ডুলকার। লিটল মাস্টার খ্যাত এই কিংবদন্তি বিশ্বকাপের ইতিহাসেরও সেরা ব্যাটসম্যান।
হাজার হাজার রান, ‘শতরানের শতক’ আর বহু রেকর্ডের জন্ম দেওয়ার পর ২০১৩ সালে ক্রিকেটকে বিদায় জানানো এই মহানায়ককে বিশ্বকাপের প্রাক্কালে স্মরণ করতে হচ্ছে আরেকবার। কারণ, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই আসরেও জয়জয়কার শচিনেরই। শচিন বিশ্বকাপের আসরে খেলেছেন ২০১১ সাল অবধি। এরপর সর্বশেষ ২০১৫ সাল থেকে তাকে আর ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দেখা যায়নি।
দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ২২ গজে রাজত্ব করে যাওয়া শচিন, জাভেদ মিয়াঁদাদের পর একমাত্র ব্যক্তি হিসাবে খেলেছেন ছয়টি বিশ্বকাপ। ১৯৯২ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা এই ভারতীয় ব্যাটিং জিনিয়াস বিশ্বকাপে ৪৫ ম্যাচে ৫৭ ছুঁই ছুঁই গড়ে করেছেন ২২৭৮ রান। যা কিনা সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিকি পন্টিংয়ের চেয়ে ৫০০রও বেশি! পন্টিং অবশ্য এগিয়ে আছেন একটি জায়গায়। শচিনের চেয়ে একটি ম্যাচ বেশি খেলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি এই সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের দখলে। বাকি সব জায়গায় শচিনেরই জয়জয়কার।
সর্বোচ্চ রানের মতই ছয়টি সেঞ্চুরি করে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায়ও এগিয়ে আছেন শচিন। রানের সুবিশাল এই সংগ্রহের পথে ২৪১টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন গত বছর ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ভারত রত্ন খেতাবে ভূষিত হওয়া এই তারকা। বাউন্ডারির দিক থেকেও যেটি সর্বোচ্চ। হাঁকিয়েছেন ২৭টি ছয়ও।
এখানে শচিনের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম স্থানে থাকা হার্শেল গিবসের ছক্কার সংখ্যা ২৮টি। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটিও শচিনের দখলে। ২০০৩ বিশ্বকাপে অনেকটা অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের এক প্রদর্শনীতে ৬৭৩ রান করেন শচিন। দল ফাইনালে হেরে গেলেও অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি স্বরূপ শচিন পেয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে দেশকে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতানোর পথেও বড় অবদান রাখে শচিনের ব্যাট।
বিশ্বকাপ মঞ্চে ২১ বার ৫০-এর ওপর রান করেছেন টেন্ডুলকার। ১৫টি হাফ সেঞ্চুরি এবং ৬টি সেঞ্চুরিতে ক্রিকেট বিশ্বকাপে তার পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস সংখ্যা ২১টি। অন্যদিকে বিশ্বকাপে মাত্র ১২টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস রয়েছে শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারার।
রানের দিক থেকে ব্যবধানটা অনেক হলেও শচিনের পরই আছেন পন্টিং। তিনটি বিশ্বকাপ জেতা এই ডানহাতি করেছেন এক ১৭৪৩ রান। ৪৫.৮৬ গড়ে এ সময়ে তিনি সেঞ্চুরি করেছেন পাঁচটি, হাফ সেঞ্চুরি ছয়টি। ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল পন্টিংয়ের অপরাজিত ১৪০ রানের ইনিংসটি। ক্যারিসমেটিক এই ব্যাটসম্যানের দাপটেই ভারতকে ১২৫ রানের বড় ব্যবধানে হারাতে সক্ষম হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
এছাড়া ২০০৭ আসরে অস্ট্রেলিয়ার চ্যাম্পিয়ন হওয়া ক্ষেত্রেও বড় অবদান ছিল তার। এ আসরে তিনি মোট ৫৩৯ রান করেন। এর পরেই আছেন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা। বিশ্বকাপে ৩৫ ম্যাচে ৫৬.৭৪ গড়ে মোট ১৫৩২ রান করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি এবং সাতটি হাফ সেঞ্চুরি।
বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে টেন্ডুলকার খেলেছেন ৪৪টি ইনিংস। এ ক্ষেত্রে তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্ব্বী অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং। বিশ্বকাপে যিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪২টি ইনিংস খেলেছেন। বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বাধিক ২৬ ইনিংস রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের। টেন্ডুলকারের জীবদ্দশায় তার এই রেকর্ড ভাঙা আক্ষরিক অর্থেই অসম্ভব।
