সাদা চোখে দ্বিতীয় বিশ্বকাপটিকে বলা যায় ১৯৭৫ সালের প্রথম সংস্করণের হুবহু প্রতিলিপি। এবারও ইংল্যান্ডে খেলা, আট দলের টুর্নামেন্ট, ছয়টি ভেন্যুতে খেলা, এবারও পৃষ্ঠপোষক প্রুডেন্সিয়াল এবং এবারও ক্লাইভ লয়েডের হাতে ট্রফি। পার্থক্যটা কোথায়? পার্থক্য বুঝতে হলে সে সময়ের ক্রিকেট রাজনীতিতে ফিরে যেতে হবে। ক্যারি পেকারের ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটের দাপটে তখন বিশ্ব ক্রিকেটের মূল প্রতিষ্ঠানমুখিতা কেপে গেছে। সেই সময়ে এই বিশ্বকাপটি ছিল আইসিসির অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা। ১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়া ব্যবসায়ী ক্যারি প্যাকারণ তখনকার আইসিসির সঙ্গে প্রবল মতোবিরোধের জের ধরে আয়োজন করেন ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেট।
আইসিসির নিষেধাজ্ঞার হুমকি ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও তখনকার দিনের এই ‘আইসিএল’-এ যোগ দেন বিশ্বের নামকরা সব ক্রিকেটার। আইসিসির সাদা পোশাক ও লাল বলে দিনের আলোয় ‘ম্যাড়মেড়ে’ ওয়ানডের বিপরীতে ক্যারি পেকার সামনে নিয়ে আসনে মোড়ক ভাঙা ঝা চকচকে এক ক্রিকেটের প্রদর্শনী। রঙ্গীন পোশাক, সাদা বল (হলুদাভ), ফ্লাড লাইটের আলোয় খেলা, এক গাদা ক্যামেরায় খেলা সমপ্রচার মিলিয়ে ক্যারি পেকার সাহেব তখন বিশ্ব ক্রিকেটেরই প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ালেন। আজও চ্যানেল নাইনের সেই সময়ের খেলা সমপ্রচারকে তাক লাগানো এক ব্যাপার বলে মনে করা হয়। এই অবস্থায় প্রথম শুরু হওয়া আইসিসি ট্রফির ফাইনাল খেলা শ্রীলঙ্কা ও কানাডাকে সঙ্গে নিয়ে আট টেস্ট খেলুড়ে দেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হল দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। তাতেই খুব একটা রক্ষা হয়নি। পরের দু বছর ওয়ার্ল্ড সিরিজে আরও তারকা যোগ দিয়েছেন। এই বিশ্বকাপে খেলা হিসেবে মনে রাখার মতো ব্যাপার নিশ্চয়ই ফাইনালে ভিভ রিচার্ডসের দুরন্ত সেই সেঞ্চুরি।
