কারিগরদের পুঁজির অভাব
ঈদ সামনে রেখে নাটোরের লালপুর উপজেলার বেনারসি পল্লী খ্যাত রাকসার ধানাইদহ পাড়ার কারিগররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দিন-রাত তারা নিপুণ হাতে তৈরি করছেন বেনারসি শাড়ি। তাদের প্রস্তুতকৃত বারকেট, নেট, জানিবাহার, টাইটনিক্স, ফিগারসহ নানা নামের ও ডিজাইনের শাড়ির কদর বেড়েছে ঢাকাসহ সারাদেশে। চাহিদা অনুযায়ী শাড়ি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেনারসি শাড়ি প্রস্তুতকারী কারিগরদের ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। শাড়ির কারিগর সানাউল্লা জানান, প্রায় ২০ বছর পূর্বে ধানাইদহ পাড়ার জাফর মৌলভী প্রথম নিজ বাড়িতে তাঁত বসিয়ে শাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন। বর্তমানে ১৭টি তাঁতে উন্নতমানের বেনারসি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। একটি শাড়ি তৈরিতে একজন কারিগরের ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে এবং ১২শ’ থেকে ২ হাজার টাকার সুতার প্রয়োজন হয়। প্রতি শাড়ির জন্য তারা মজুরি পান ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা। একটি শাড়ি ২ হাজার ৫শ’ থেকে ৪ হাজার ৫শ’ টাকা হিসাবে পাইকারি বিক্রি হয়। লালপুরে প্রস্তুতকৃত শাড়ির মধ্যে ফিগার সবচেয়ে দামি। যার পাইকারি মূল্য ৪ হাজার ৫শ’ টাকা। মহাজনরা সরাসরি এখান থেকে শাড়ি কিনে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করেন। তারা নিজেদের কোম্পানির নামের লেবেল সেঁটে খুচরা বাজারে ছেড়ে দেন। খুচরা বাজারে এক একটি শাড়ি বিক্রি হয় ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায়।
কারিগররা জানান, এক সময় ধানাইদহ পাড়ায় ৯০-৯৫টি তাঁত মেশিনে বেনারসি শাড়ি তৈরি হতো। ১/১১-এর পর হঠাত্ করে বেনারসি শাড়ির বাজারে ধস নামার ফলে পুঁজি হারিয়ে কারিগররা অন্য পেশায় যোগ দেন। বর্তমানে শাড়ি তৈরি লাভজনক হওয়ায় অনেকেই আবার নতুন করে এ পেশায় ফিরে আসতে চাইলেও পুঁজির অভাবে তা পারছেন না।
