প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করলেন সাবেক মেয়র

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৪, ২১:২৮
চট্টগ্রামে এনসিটি ইস্যু চট্টগ্রাম বন্দরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে নিউমুরিং কন্টেইনার ট্রার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগে মহল বিশেষের চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রেরিত জরুরী এক ফ্যাক্স বার্তায় মহিউদ্দিন চৌধুরী এ আহ্বান জানান। পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী, বন্দর সচিব, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বন্দর চেয়ারম্যান বরাবরেও এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরূপ বার্তা পাঠানো হয়েছে। বার্তায় মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণ কেন্দ্র। অতীতে এ বন্দরের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন না হওয়ায় জাহাজ ও কন্টেইনার জট লেগে থাকত। ৯৯ সালে তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকার চট্টগ্রাম বন্দর তহবিল থেকে ৭৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং বন্দরের পরিচালনায় এনসিটি নির্মাণ প্রকল্প একনেক অনুমোদন প্রদান করে। বিগত জোট সরকার চক্রান্ত মূলকভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের ঐ অনুমোদনকে পাশ কাটিয়ে এই প্রকল্পে ইনভেস্টর কাম অপারেটর অর্থাত্ বিদেশি প্রাইভেট অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এতে ইকুইপমেন্ট সংগ্রহসহ এনসিটি দীর্ঘ মেয়াদীভাবে বিদেশিদের দ্বারা পরিচালনা করার ব্যবস্থা রাখা হয়। ঐ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় সর্বমহল থেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠে। পরে জোট সরকার ২০০৬ সালে তা স্থগিত ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১/১১ এর সরকার আমলে পুনরায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঐ সময়ে টেন্ডার ডকুমেন্ট সংশোধন করতে গিয়ে নানা কেলেংকারীর ঘটনা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়। এসব বিষয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসায় তিনি বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করার নির্দেশ দেন। সাথে সাথে একনেক সিদ্ধান্ত মোতাবেক বন্দরের অর্থায়নে ও পরিচালনায় এনসিটি’র জন্য ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহের পুনঃনির্দেশনা প্রদান করা হয়। যা গত ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (চবক) অবহিত করে। সে মোতাবেক চবক এনসিটি’র জন্য ইক্যুপমেন্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করে। এ অবস্থায় গত ২ জুন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি চট্টগ্রামে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐ সিদ্ধান্তের পরিপন্থীভাবে পুনরায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের জন্য মত প্রকাশ করে। মহিউদ্দিন চৌধুরী বার্তায় আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক একনেক অনুমোদনের ভিত্তিতে এনসিটি’র ভৌত অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। বন্দরের অন্যান্য বার্থের মতো এনসিটি’র বার্থগুলোকে বন্দরের অধীনে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক দরে দক্ষ ও অভিজ্ঞ দেশীয় বার্থ অপারেটর দ্বারা পরিচালনা করা সম্ভব। অপরদিকে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ হলে তারা চট্টগ্রাম বন্দরের নির্মিত এনসিটি’তে একটানা ২৫-৩০ বছর বা তারও বেশি সময় এ টার্মিনাল পরিচালনা করবে। ফলে এ আধুনিক জেটি-টার্মিনালের উপর চট্টগ্রাম বন্দরের কর্তৃত্ব লোপ পাবে। এতে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠবে। ফলে সরকার যেমন বেকায়দায় পড়বে, ঠিক তেমনি জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। চট্টগ্রাম বন্দরে দ্বৈত প্রশাসন এর সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি এনসিটি, চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিবি) এবং জেনারেল কন্টেইনার বার্থ (জিসিটি) এর মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। যার শিকার হবে দেশবাসী, বন্দরের শ্রমিক কর্মচারী ও বন্দর ব্যবহারকারীবৃন্দ তথা জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। মহিউদ্দিন চৌধুরী উল্লেখ করেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে বার্থ অপারেটর হিসেবে নিয়োজিত সাইফ পাওয়ার টেক তাদের অবৈধ একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে। যা বন্দরের অগ্রযাত্রাকে অনেকাংশে ব্যহত করছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এই সাইফ পাওয়ার টেক বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে কুচক্রি মহলের সহায়তায় বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কাজে নিয়োগ পায়। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সবশেষে ফ্যাক্স বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, এনসিটি’র ভাটিতে নৌ-বাহিনীর মূল প্রতিরক্ষা স্থাপনা সমূহ, উজানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব টার্মিনাল সিসিটি। এহেন অবস্থায় এনসিটিতে বিদেশি প্রাইভেট অপারেটর নিয়োগ উভয় প্রতিষ্ঠানের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। ফলে এনসিটি’র জন্য বিদেশি অপারেটর নিয়োগে মহল বিশেষের চক্রান্ত চলছে দাবী করে তিনি এর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সাথে সাথে ১৯৯৯ সালের একনেক ও পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে তার (প্রধানমন্ত্রী) সিদ্ধান্ত মোতাবেক এনসিটি’র জন্য বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ ও তা পরিচালনার পুনঃনির্দেশ প্রদানের আহবান জানান।