জাতি হিসেবে আমাদের অনেক ঐতিহ্য আছে, আছে সংগ্রাম ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। আমাদের সেই ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হবে, হূদয়ে লালন করতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এই ক্ষেত্রে মজবুত, টেকসই ভিত হিসেবে কাজ করবে এটাই জাতির প্রত্যাশা। কিন্তু সেই ভিত যদি নড়বড়ে হয় তবে জাতীয় প্রত্যাশা অনেক ক্ষেত্রেই ভেঙে পড়ে। আমরা শুধু ফলাফল বাড়ানো তথা পাসের হার, জিপিএ-৫ এর হার বাড়ানোর এক অঘোষিত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত আছি। এদিকে আমাদের মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে বারোটা বেজে যাচ্ছে। রেজাল্টই একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর মানদণ্ড। আমাদের খুব কষ্ট হয় যখন দেখি গ্রামের সেই দুর্বল ছাত্রটাও যার ২/১ বিষয়ে ফেল করার কথা সেও জিপিএ-৫ পেয়ে বসে আছে! তাহলে জিপিএ-৫-এর মর্যাদাটা রইলো কোথায়?
আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর জন্য বিরতিহীন পরীক্ষা পদ্ধতির কথা বলছেন যা অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সকল মহলেই সমালোচিত হয়েছে। এ যেন মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলে দেওয়ার মতো অবস্থা! যখন কোনো পরীক্ষার্থী তিন ঘণ্টার একটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা দেয় তখন তার মানসিক চাপ থাকে, ব্রেইনের বিশ্রাম প্রয়োজন হয়। ঐদিন পরীক্ষা দিয়ে এসে অনেকেই পড়তে পারে না, তাদের প্রস্তুতির কথা কি আমরা একটুও চিন্তা করবো না! নাকি আগামী দিনগুলোতে যে পরীক্ষা হবে তাতে উত্তর দেওয়ার জন্য কোনো রকম প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে না? শুধু পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হলেই জিপিএ-৫ পাওয়া যাবে!
আমাদের দেশে এখন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো অভাব নেই, এদেশের অলিতেগলিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। সেই তুলনায় চাকরির ক্ষেত্রটা অনেক সংকুচিত। দেশের কয়েক লাখ বেকার তরুণ প্রতিনিয়ত চাকরির পেছনে ছুটছে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি নামের সোনার হরিণটা তাদের ধরা দিচ্ছে না। বেকারত্ব দূর করার জন্য আমরা শিক্ষাটাকে কাজে লাগাই আর সেই শিক্ষাই যদি বেকারত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাহলে শিক্ষার মূল্যটা রইলো কোথায়? শিক্ষার সঠিক মূল্যায়ন তখনি হবে যখন এদেশে কোনো বেকার থাকবে না, চাকরির ক্ষেত্রটা আরো প্রসারিত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চাকরির ক্ষেত্র সৃষ্টির চেষ্টাও চালিয়ে যেতে হবে আর তারা যদি মনে করে এ দায়িত্বটা তাদের নয় তবে অন্য মন্ত্রণালয়কে সেই সুযোগ সৃষ্টির জন্য সুপারিশ করতে হবে। তাহলেই আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। আমরা তরুণ প্রজন্ম সেই সোনার বাংলাকে দেখার অধীর আগ্রহে আছি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
