নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছেন, ‘শিক্ষা হলো একটি শক্তিশালী অস্ত্র যেটা দ্বারা তুমি পুরো পৃথিবী পরিবর্তন করতে পারবে।’ কোন জাতি কতটুকু উন্নতি করবে, আর কতটুকু অনগ্রসর থাকবে তা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে সেই জাতির প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত ও গুণগত মানদণ্ডের ওপর। আমরা স্বাধীনতার ৪৩ বছর অতিক্রম করার পরও সেই কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাব্যবস্থা অর্জন করতে পারিনি। ইদানীং আমাদের দেশে যে কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অভিশাপ থেকে পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও নিস্তার পাচ্ছে না। ফলে কোমলমতি পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত মেধাবীরা পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে—যা তাদের পরবর্তী জীবনে অবশ্যম্ভাবী বিরূপ প্রভাব ফেলবে। আবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, বিসিএস পরীক্ষা, বিজেএস পরীক্ষা, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ছাড়াও অন্যান্য যে কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াটা যেন ডালভাতে পরিণত হয়েছে। অথচ এর ওপর নির্ভর করে আমাদের দেশের চালিকাশক্তি নির্ধারণ ও প্রকৃত মেধাবীদের ভবিষ্যত্। একজন ছাত্র যখন সারা বছর তার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন হূদয়ে লালন করে তা বাস্তবে রূপান্তরিত করতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে এবং ফাইনাল পরীক্ষার পূর্বরাতে শোনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য ঘটনা তখন তার জীবনে নেমে আসে স্বপ্ন ভাঙার এক ঘোর অমানিশা।
ধারাবাহিক ও নিরবিচ্ছিন্ন প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় যখন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়া সোচ্চার তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই স্বনামধন্য লেখক ও বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল রাস্তায় নেমেছেন এবং এই পদক্ষেপের সঙ্গে সচেতন মহলসহ শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা সংহতি প্রকাশ করেছে। এর ফলে আমরা উপলব্ধি করতে পারি, এটি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশের কল্যাণ ও গণমানুষের দাবি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাবান্ধব আইন প্রণয়ন করে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কুচক্রীমহলকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হোক।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
