যখনই রমজান আসে, তখনই ধরাধামে আসে জীবনের ব্যাপক রূপগত পরিবর্তন, পালটে যায় জীবনের গত্বাঁধা ছক। মনে মনে বয় ভিন্নানুভূতির স্রোত। তবে সব মনে নয়। কিছু কিছু মনে। রূপগত পরিবর্তন নয়, রমজান আমাদের বলে জীবনের গুণগত পরিবর্তনের কথা। বলে চিত্তশুদ্ধির কথা। গায় দৃষ্টি-মনন শুদ্ধির গান। শোনায় ষড়রিপুর দাসত্বমুক্তির বাণী। কিন্তু সে কথায় আমাদের কতটুকু কর্ণপাত? সে বাণীতে আমাদের কতটা মনোপাত? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রমজানটা আমাদের কাছে আয়োজনেই সীমাবদ্ধ। আমাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রমজানটা কেবলি যেন পালন, লালন নয়। রমজানে আমাদের কামতাড়িত বা জিঘাংসাতাড়িত পাপে (খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি প্রভৃতি) কিছুটা ভাটা পড়ে বটে, তবে ভাটা পড়ে না আচরণগত পাপে (গীবত, পরনিন্দা, আমানত খিয়ানত, মিথ্যা বলা প্রভৃতি)। ভাটা পড়ে না বুদ্ধিবৃত্তিক পাপে (অবৈধ মজুদ, জালিয়াতি, পাইরেসি, অতিরিক্ত দ্রব্যমূল্য আদায় প্রভৃতি)। দান-খয়রাত, ফিতরা প্রদান প্রভৃতি চিত্র পরিবর্তনের শুভ ইঙ্গিত দিলেও রমজানের বিদায়ে, বিদায় নেয় সব। বিদায় নেয় আমাদের মনে হঠাত্ জাগা ডা. জেকিল। সময় গড়াতে সেখানে আবার ফিরে আসে আমাদের মজ্জাগত মিস্টার হাইড। পরিণত হই মেকিয়্যাভেলির সার্থক সন্তানে। আমার চোখে রমজানের সাফল্য এখানেই যে, মাসটা আমাদের কুপ্রবৃত্তিটাকে খুন করতে না পারুক, কিছু সময়ের জন্য দমিয়ে তো রাখে— অন্য ১১ মাসে যে তাও সম্ভব হয় না।
ঢাকা
