বকশি বাজারের সামনে থেকে ফ্লাইওভারে উঠে নিমেষেই পেরিয়ে যাওয়া যায় যাত্রাবাড়ি। রাজধানীতে জ্যাম লেগে থাকা প্রধান মোড়গুলো পেরিয়ে মনে হয় যে, খুব দ্রুতই এগিয়ে গেলাম। কিন্তু ফ্লাইওভার ছেড়ে যেই না ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নামে গাড়ি, তখনই আবারো সেই জ্যাম।
শুধু ফ্লাইওভার থেকে নেমে আসার পথেই নয়, রাজধানীতে প্রবেশের আগে ফ্লাইওভারে উঠতে গিয়েও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় যাত্রীদের। এছাড়া যেসব যানবাহন ফ্লাইওভারে না উঠে নিচ দিয়ে সায়েদাবাদের দিকে যেতে চায় এসব গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও জ্যামের সৃষ্টি করে চলেছে। নিচ দিয়ে যেসব গাড়ি চলাচল করে সেগুলো ফ্লাইওভারের মুখ বন্ধ করে রাখে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর সঠিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে ফ্লাইওভারগুলোর পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাচ্ছেন না নাগরিকরা।
গত কয়েকদিন ঢাকার মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের প্রতিটি পয়েন্ট ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। এছাড়া রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভার ও মহাখালী ফ্লাইওভারের পরিস্থিতিও একই।
হানিফ ফ্লাইওভার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ি এলাকায় এসে রাস্তায় মিশেছে। তার ২০০ গজের মধ্যে রাস্তার দুই পাশ জুড়ে বাজার ও রিকশা স্ট্যান্ড। এছাড়া রয়েছে লোকাল বাস থামার স্ট্যান্ড। এই বাজার আর লোকাল বাসের যত্রতত্র থেমে যাত্রী ওঠানামার কারণে সৃষ্টি হয় জ্যামের। এই যে শুরু হয় তা চলতে থাকে। এরপর শনির আখড়া, কাঁচপুর ব্রিজ সবখানেই থেমে থেমে জ্যামের শিকার হতে হয় দূরপাল্লার যাত্রীদের।
অন্যদিকে যাত্রাবাড়ি থেকে ফ্লাইওভারের আরেকটি অংশ ডেমরা সড়কের কাজলায় এসে রাস্তার সঙ্গে মিশেছে। সেখানেও একই চিত্র। রাস্তার দুই দিকে ছোট ছোট দোকান, রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড, লোকাল বাসের থেমে থেমে যাত্রী তোলা তো আছেই। ফ্লাইওভার থেকে যানবাহনের যে স্রোত স্বাভাবিক গতিতে নামে তা মূল রাস্তায় নেমেই হোঁচট খায়।
মঙ্গলবার সকালে এমন চিত্র দেখা গেল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রায়েরবাগ এলাকায়ও। দূরপাল্লার বাসগুলো ফ্লাইওভার থেকে নেমেই থমকে দাঁড়াচ্ছে লোকাল বাসগুলোর এলোমেলো দাঁড়িয়ে থাকার জন্য। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বললেন, এই জ্যাম সবসময় লেগেই আছে। দূরপাল্লার বাসযাত্রীরা বলছেন, ফ্লাইওভার হওয়ায় আমরা খুব খুশি ছিলাম যে ঢাকার জ্যাম সহজেই পেরিয়ে যাওয়া যাবে। কিন্তু ফ্লাইওভারটুকুই শুধু পেরুনো এরপর সেই জ্যাম। লাভ হলো কি?
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বাসচালক মহিউদ্দিন বললেন, লোকাল বাসের ইচ্ছামত দাঁড়িয়ে থাকা, রিকশা-ভ্যানের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের জন্য আমাদের যাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা যদি রাস্তার মোড়ে মোড়ে জ্যাম নিয়ন্ত্রণ না করে তাহলে দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তি কোনদিনই শেষ হবে না।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসা সৌদিয়া বাসের যাত্রী শান্তনু চৌধুরী বললেন, লোকাল রুটের বাসগুলোর কারণেই দুর্ভোগ বেশি হয়। এদের হাতে যেন রাস্তা-ঘাট জিম্মি। পুলিশ এদের কিছুই বলে না। দূরপাল্লার বাসগুলোও এদের কিছু বলার সাহস পায় না। এই বাসের চালক-হেলপাররা ইচ্ছামত বাস দাঁড় করিয়ে রেখে যাত্রী তোলে। পেছনে যে যানবাহনের সারি জমে গেছে সে নিয়ে এদের কোন মাথাব্যথা নেই।
তবে এসব রাস্তার মোড়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কোন তত্পরতা চোখে পড়ে না। ট্রাফিক পুলিশ মোড়ে মোড়ে দায়িত্বে থাকলেও রাস্তায় বাসের দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধে তাদের কোন তত্পরতাই চোখে পড়েনি।
এ প্রসঙ্গে যাত্রাবাড়ি থানার ডিউটি অফিসার জানান, টহল পুলিশ তো থাকেই। মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশও থাকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে। আগের চাইতে এই মহাসড়কে জ্যাম আগের তুলনায় অনেক কমেছে। জ্যামকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমারা সবসময় সচেষ্ট আছি।
