ঈদু-উল-ফিতর আসন্ন। এবারে দেশের চার মহাসড়কের ৪৭টি পয়েন্টে পাঁচশ মিটার থেকে শুরু করে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত তৈরি হয়েছে অসংখ্য ভয়াবহ খানা-খন্দ। ফলে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সংস্কার বা চলাচলের উপযোগী না করা গেলে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হবে গাড়িতে। যে কষ্টের শেষ কিছু বলার থাকবে না। আর এ অবস্থায় দায়িত্ব পালনকালে সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণকারী হাইওয়ে পুলিশকে পড়তে হবে বিব্রতকর অবস্থায়।
এ প্রেক্ষাপটে পয়েন্টগুলোর সার্বিক চিত্র তুলে ধরে ইতিমধ্যে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
পয়েন্টগুলো হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৯ টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ১৩ টি, ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে ৯টি, ঢাকা-সিলেট ২টি, ঢাকা-খুলনা ২টি ও সিরাগঞ্জ-বগুড়া সড়কের ২টি। পুলিশ সদর দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, পয়েন্টগুলো সংস্কার হলেও ঈদের আগে ও পরে মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখা যাবে না এমন সংশয় রয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আছাদুজ্জামান মিয়া মহাসড়কের ৪৭টি পয়েন্টের খারাপ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ঈদে ঘরেফেরা মানুষের যাতে ভোগান্তিতে না পড়তে হয় সে জন্য নানা উদ্যোগ নিয়ে মহাসড়কগুলোকে সচল রাখার চেষ্টা চলছে। আমাদের দেয়া তালিকা অনুয়ায়ী এসব পয়েন্টে সংস্কারের কাজ দ্রুততার সঙ্গে চলছে। যোগাযোগ মন্ত্রীও ২০ জুলাইয়ের মধ্যে মেরামতের কাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সমস্যা হবে না বলে আশা করছি।
তিনি বলেন, মহাসড়কে যানজট, যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় অন্যান্য বারের অভিজ্ঞতার আলোকে এ বছর নতুন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশকে সহযোগিতায় আনা হচ্ছে এপিবিএন, শিল্প পুলিশ, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে বিপুলসংখ্যক সদস্য। যারা আগামী ২২ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। বসানো হচ্ছে মির্জাপুর, চন্দ্রা, গাজীপুর চৌরাস্তা, সাভার, বাইপাইল, কাঁচপুর, ভুলতা, গাউছিয়া, দাউদকান্দি, পদুয়াবাজারসহ ১৩টি স্থানে কন্ট্রোল রুম। এ কন্ট্রোল রুম থেকে চার মহাসড়ক মনিটর করা হবে। পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারাও মহাসড়কে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। অপরদিকে, প্রতি ৫/৬ কিলোমিটার পর থাকবে মোটরসাইকেলে পুলিশের টহল, যাতে কোন স্থানে যানজট তৈরি হলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এছাড়া গাড়ি ছাড়ার পূর্বে এবং ফেরি ঘাট ও টোল প্লাজায় ভিডিও করা হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া যততত্র পুলিশ গাড়ি থামাতে পারবে না।
ঈদের সময় মহাসড়কে পুলিশের চাঁঁদাবাজি বেড়ে যায়—এ ব্যাপারে ডিআইজি বলেন, এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েই রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। চাঁদাবাজি রোধে ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে বিশেষ টিম।
মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঈদের আগে তিন দিন অর্থাত্ ২৭ থেকে ২৯ জুলাই ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে। জ্বালানি তেল, পচনশীল পণ্য ও গার্মেন্টস রফতানি পণ্য এ নির্দেশনার বাইরে থাকবে। নসিমন-করিমন যাতে মহাসড়কে চলাচল করতে না পারে সেজন্য হাইওয়ে পুলিশ কঠোর। সাভার বাজার-বাইপাইল বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে রাস্তার ওপরে দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালে ৩টি ভিজিলেন্স টিম ঈদের আগের ৫ দিন সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে। এ টিমগুলো অতিরিক্ত ভাড়া রোধ করা ছাড়াও যাত্রীদের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগীয় ও গুরুত্বপূর্ণ শহরেও ভিজিলেন্স টিম মোতায়েন করা হবে। লক্কর-ঝক্কর গাড়ি যাতে দূরপাল্লার রুটে চলাচল করতে না পারে সেজন্য থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মহাসড়কে বিকল হয়ে পড়া যানবাহন দ্রুত সরানোর জন্য দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক রেকার মোতায়েন করা হবে। মেঘনা ও গোমতী সেতুতে সার্বক্ষণিক থাকবে ক্রেন ও রেকার।
বঙ্গবন্ধু সেতুতে সব টোল বুথ চালু থাকবে। অতিরিক্ত ভারবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধে থাকছে ওয়েব্রিজ। বাবুবাজারে টোল প্লাজা সেতুর ওপর থেকে সরিয়ে দূরে নেয়া হবে। মাওয়া-কাওড়াকান্দি ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যানজট প্রতিরোধে পর্যাপ্তসংখ্যক ফেরি চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশপাশি যানজট কমাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করা হবে। সচেতনতা তৈরির জন্য ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে থাকবে মাইক্রোফোনে ব্যাপক প্রচারণা।
