ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড় রামমাসানের তাণ্ডব, ১০ জনের মৃত্যু

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২০:৪৪
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার দক্ষিণাঞ্চলে বুধবার ঘূর্ণিঝড় রামমাসানের আঘাতে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে বহু লোক। এ কারণে হাজার হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার লোককে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। দেশটির প্রধান দ্বীপ লুজানের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার বেগে রামমাসান আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়টিকে গ্লেন্দা নামেও অনেকে অভিহিত করেন। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে এসব এলাকা ঘোর অন্ধকারে তলিয়ে যায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া সরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট বন্ধ রাখারও ঘোষণা করা হয়। রাজধানীর দক্ষিণে বান্তানগাস প্রদেশের ভাইস গভর্নর মার্ক লেভিস্তি বলেন, এখানে এত বড় ঘূর্ণিঝড় হয়েছে যে আমি আগে কখনো এমনটি আর দেখিনি। এটি সত্যিই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। আল জাজিরা সাংবাদিক জামিলা অ্যালিংদোগান ম্যানিলা থেকে জানান, সোমবার থেকেই সরকার এ ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু এত প্রস্তুতি নেয়ার পরও অন্ধকারে ডুবে আছে ম্যানিলা। সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রীতিমতো অচল হয়ে গেছে ম্যানিলা। উদ্ধার কর্মীরা জানান, আটকে পড়াদের উদ্ধার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। তারা আরো জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপড়ে পড়া গাছ ও বিদ্যুত্ খুঁটির একটি ধারা রেখে গেছে। অনেক স্থানে তড়িতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রবল ঝড় বয়ে গেলেও সঙ্গে বৃষ্টি না থাকায় রাজধানীর কোথাও বন্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন ফিলিপাইন রেডক্রসের চেয়ারম্যান রিচার্ড গর্ডন। রাজধানী ম্যানিলায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে ম্যানিলার দক্ষিণে ব্যাটাঙ্গস্ শহরে ঝড়ে উড়ে আসা আবর্জনার স্তূপে কিছু লোক চাপা পড়েছে এবং রেডক্রসের কর্মীরা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এখানে দু’জন তড়িতাহত হয়ে নিহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে ফিলিপাইনের মধ্য প্রদেশে ঘূর্ণিঝড়ে কমপক্ষে ৬ হাজার ১শ’ জন মানুষ মারা যায়।