পাকিস্তানে সেনা অভিযান ও মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ৪৮

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২০:৪৫
পাকিস্তানের আদিবাসী অধ্যুষিত উত্তর ওয়াজিরিস্তানে বুধবার সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় সন্দেহভাজন ৩৫ বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের সীমান্তের মধ্যে অবস্থিত এলাকাটি বিদ্রোহীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিদ্রোহীদের দমনে পাক সরকারের জার্ব-ই-আজব নামের সামরিক অভিযানে হতাহতের এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মুখপাত্র। অপরদিকে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একই দিন সন্দেহভাজন জঙ্গি অধুষ্যিত এলাকায় মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে। —খরব ডন অন লাইন ও টাইমস অফ ইন্ডিয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরশাহের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিও সাদাগির একটি জঙ্গি অধ্যুষিত এলাকাকে লক্ষ্য করে দুটি মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। এতে কমপক্ষে ১৩ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। এক সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, মিরশাহ ও মীর আলীতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী অভিযান চালানোর পর বিদ্রোহীরা জিও সাদগী এলাকায় এসে জড়ো হয়। অপর একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ঐ হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে। যার মধ্যে ১২ জন ইসলামিক মুভমেন্ট অব উজবেকের সদস্য রয়েছে। এদিকে বিদ্রোহীদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল ও তাদের আশ্রয়স্থল ধ্বংস করতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা দ্রুত মির আলী তেহসিলের দিকে যেতে শুরু করেছেন। মির আলী এলাকাতেও বিদোহীদের ওপর বিমান হামলা চালানোর কথা রয়েছে। মির আলী এলাকায় বিদ্রোহীরা বিপুল অস্ত্রসামগ্রী লুকিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পাকিস্তানের করাচি বিমানবন্দরের হামলার জের ধরে পাকিস্তানি ও বিদেশি বিদ্রোহীদের নির্মূল করতে তাদের বিভিন্ন আশ্রয়স্থলে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সামরিক বাহিনী। দেশটির উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সেনা অভিযানের শুরু থেকে উদ্বাস্তু হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ। কর্মকর্তারা বলেছেন, বান্নু শহরের কাছে বাস ও লরির লম্বা লাইন ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। শরণার্থী বহু শিশুরই টিকা দেয়া না থাকায় পোলিও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শরণার্থীদের বেশিরভাগই শিশু। মানবিক সঙ্কট সামাল দিতে যথাসম্ভব সবকিছু করছে স্থানীয় কর্মকর্তারা। বান্নুর কাছে শরণার্থীদের একটি শিবির স্থাপন করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ পরিবারই সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। করাচি বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী একটি হামলা হওয়ার পর ওয়াজিরিস্তানে অভিযান শুরু হয়। উজবেক জঙ্গি গ্রুপ ও পাকিস্তানি তালেবানরা মিলে ঐ হামলা চালায়। উত্তর ওয়াজিরিস্তানের শাওয়াল ও অন্যান্য এলাকায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে দুই শতাধিক জঙ্গি মারা গেছে বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী।