উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সামগ্রী। ভুয়া ড্রাগ লাইসেন্সের অনুকূলে ও ওষুধ কোম্পানির নিয়োগকৃত বিক্রয় প্রতিনিধির মাধ্যমে মিয়ানমারে ওষুধ পাচার অব্যাহত থাকলেও পাচার বন্ধে প্রশাসন ততোটা সক্রিয় নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সড়ক পথে পাচারের সময় কিছু কিছু ওষুধ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হলেও বড় বড় ওষুধের চালান অনায়াসে পাচার হয়ে যাচ্ছে। গত সোমবার গভীর রাতে মরিচ্যা বিজিবির সদস্যরা মিনি পিকআপ ভর্তি ২০ লক্ষাধিক টাকার ওষুধসহ ২ পাচারকারীকে আটক করেছে।
জানা গেছে, উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত এলাকায় ৫ হাজারেরও বেশি ফার্মেসি গড়ে উঠেছে। অস্থিত্বহীন অধিকাংশ ফার্মেসির লাইসেন্স ব্যবহার করে এক শ্রেণীর সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র মিয়ানমারে ওষুধ পাচার করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। উখিয়া ফার্মেসি মালিক সমিতির সভাপতি ডা: আব্দুল জব্বার জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অখ্যাত ও নিম্নমানের ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির মাধ্যমে মিয়ানমারে ওষুধ পাচার হচ্ছে। মানব দেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বিধায় ওষুধ সরবরাহ ও বিপণনের উপর তেমন কোন কড়াকড়ি না থাকার সুযোগে পাচারকারী চক্র ওষুধ পাচারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে সরবরাহকৃত সরকারি ওষুধ সামগ্রী পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে হাসপাতালে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা আরো জানান, এমন কিছু ওষুধের চালান আটক হয়েছে যে সমস্ত ওষুধ সরকারি হাসপাতালে ছাড়া বাইরে পাওয়া যায় না। সম্প্রতি বিজিবি সদস্যরা উখিয়া সদর রাজাপালং ইউনিয়নের ফলিয়াপাড়া গ্রামের একটি বসত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা মূল্যের জন্ম নিয়ন্ত্রণ সুখি বড়ি উদ্ধার করেছে। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার ফজলুল হক জানান, এর আগে টেকনাফগামী যাত্রীবাহী গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ আটক করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আবু সাঈদ জানান, ১৯৮০’র দশকে সীমান্তের ৫ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ড্রাগ লাইসেন্সের উপর বিধি-নিষেধ থাকলেও বর্তমানে এর কার্যকারিতা নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, অধিকাংশ ফার্মেসি মালিক পাইকারি ও খুচরা বিক্রির অজুহাতে লাখ লাখ টাকার ওষুধ এনে পাচারকারীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। যে কারণে ওষুধ পাচার ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে। সোমবার গভীর রাতে মরিচ্যা বিজিবির সদস্যরা টেকনাফগামী একটি পিকআপ গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ১৮ কার্টুন স্টেমিটিল ও ২৫ কার্টুন মটিলন ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। এসব ওষুধ পাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বিজিবি সদস্যরা মহেশখালী ঠাকুরপাড়া তেলিপাড়া গ্রামের নুরুচ্ছফার ছেলে মো: সেলিম (২৩) ও কক্সবাজার ঘোনারপাড়া গ্রামের গোরা মিয়ার ছেলে আরিফুল ইসলামকে (২০) আটক করেছে। বিজিবির সুবেদার ফজলুল হক জানান, আটক দুই ওষুধ পাচারকারীকে গত মঙ্গলবার উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।
