গাজা উপত্যকার পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের প্রায় এক লাখ বাসিন্দাকে জীবন বাঁচাতে নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের বাড়ি না ফেরারও আহবান জানানো হয়েছে। গাজায় ইসরাইলি অভিযান শুরুর নবম দিনে গতকাল বুধবার এধরনের হুঁশিয়ারি দেয়া হলো। অস্ত্র-বিরতির উদ্যোগ হোঁচট খাওয়ায় ইসরায়েল নতুন করে গাজায় হামলা চালানো শুরু করেছে। এতে নিহতের সংখ্যা ২১১ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপি’র।
মঙ্গলবারের অভিযানে ১০ জন নিহত হয়। গতকাল বুধবার নিহত হয়েছে আরো ৪ জন শিশু। তবে গতকাল হামাসের রকেট নিক্ষেপে ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে একজন ইসরাইল নাগরিক মারা গেছেন। ইসরাইলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের রাতের অভিযানে হামাসের এক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জিতুনে বিমান থেকে বিভিন্ন লিফলেট ফেলেছে। এছাড়া মোবাইলেও বার্তা পাঠানো হয়েছে। এসব লিফলেট এবং এসএমএস এ ওই এলাকার লোকজনকে ঘর-বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। তাদেরকে এলাকা ছেড়ে যেতে গ্রিনিচ মান সময় গতকাল বিকেল ৫ টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। বিমান থেকে ফেলা এসব লিফলেটে বলা হয়, জিতুন ও শুজাইয়া এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসীদের অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালাবে। কেননা ইসরাইল ভূখন্ড লক্ষ্য করে এ দুই এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট হামলা চালানো হয়। গাজার উত্তরাঞ্চলীয় বেইত লহিয়া এলকার বাসিন্দাদেরও একই ধরনের বার্তা দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঘরবাড়িতে ফিরে না আসতে বাসিন্দাদের হুঁশিয়ারি করে দিয়ে এসব লিফলেটে বলা হয়, নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই আপনাদের সরে যেতে বলা হচ্ছে। গত ৮ জুলাই থেকে হামাস ইসরাইলি ভূখন্ড লক্ষ্য করে ১২৬০ বার রকেট হামলা চালিয়েছে বলে ইসরাইল সামরিক বাহিনী দাবি করেছে। অপরদিকে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী গাজা উপত্যকায় হামাসের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে প্রায় দেড় হাজার বার হামলা চালায়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মিসরের মধ্যস্থতায় আনা সন্ধি প্রস্তাব হামাসের রকেট হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হবার পর ইসরায়েলেরও গাজায় বিমান হামলা বাড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। নেতানিয়াহু বলেন, যেখানে অস্ত্র-বিরতি নেই, সেখানে হামলাই হতে পারে একমাত্র জবাব। নেতানিয়াহুকে স্থল হামলা চালাতে বিরোধীরা জোর দাবি জানাচ্ছেন। এ নিয়ে উভয় সংকটে পড়েছেন নেতানিয়াহু। স্থল হামলা চালালে তাদের অনেক সৈন্যও নিহত হতে পারে। তাছাড়া বিশ্ব সমপ্রদায়ের চাপও আছে। আর একবার হামলা চালানো হলে তা থেকে বেরিয়ে আসার পথ কী হবে সেই বিষয়টিও ভাবনার বিষয় নেতানিয়াহুর জন্য। যদিও এর আগে একদিন নৌবাহিনী গাজায় হামলা চালায়। ওদিকে হামাসের একজন মুখপাত্র ওসামা হামদান বলছেন, তারা এই অস্ত্র-বিরতির পরিকল্পনার কথা গণমাধ্যমের বরাতে শুনেছেন। যেহেতু যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়নি সে কারনেই প্রাথমিকভাবে এটা নিয়ে আলোচনা করতে তারা অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। গাজায় হামলায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সেখানে দেখা দিতে শুরু করেছে পানির সংকট। গাজার হাজার হাজার মানুষ এখন অস্থায়ী শিবির গুলোতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৩৬০ টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ১৮ হাজারের বেশি মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে।
