গ্যাস সংকটে নাকাল রাজধানীবাসী

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২২:৫০
তীব্র গ্যাস সঙ্কটে রাজধানীবাসীর ভোগান্তি চরমে উঠেছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক এলাকায় চুলা জ্বলছে টিমটিম করে। আবার অনেক এলাকায় চুলা জ্বলছেই না। সেহরীর সময়ও ঠাণ্ডা ও বাসি খাবার খেয়ে রোজা রাখতে হচ্ছে। গ্যাস-সঙ্কট নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে নানা অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগে সরবরাহ লাইন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতার পাইপলাইন থেকে কয়েকগুণ বেশি অবৈধ সংযোগ নেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেক এলাকার গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন পুরনো ও সরু হয়ে পড়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এছাড়া সরকার বিদ্যুত্ উত্পাদনে অধিক গুরুত্ব দেয়ায় বিদ্যুেকন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করছে। পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৩৭১ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হয়েছে। এজন্য ৯৬৮ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। যা অন্য সময়ের তুলনায় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বেশি। ফলে আবাসিক ও অন্যান্য খাতে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি হচ্ছে। তিতাস গ্যাস সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন রাজধানী ও আশেপাশের আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে ১৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ঘাটতি প্রায় ৪০ থেকে ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট। সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ২০০ কিলোমিটার অবৈধ পাইপলাইন রয়েছে। এই পাইপলাইন থেকে প্রায় ২ লাখ অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়া হয়েছে। ফলে বৈধ গ্রাহকরা ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, বনশ্রী, মুগদা, মিরপুরের সাংবাদিক কলোনি, মুসলিম বাজার, কাজীপাড়া, পীরেরবাগ, শেওড়াপাড়া, আনসার ক্যাম্প, রূপনগর, তুরাগ এলাকার কামারপাড়া, ভাটুলিয়া, দক্ষিণখানের আশকোনা, পুরান ঢাকার টিকাটুলি, গোপীবাগ, মানিকনগর, সায়েদাবাদ, স্বামীবাগ, কে এম দাস লেন, ধলপুর, ধোলাইরপাড়, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, নবীনগর, মুরাদপুর, পাটেরবাগ, হাজী খোরশেদ আলী রোড, কুতুবখালী, জিয়া সরণি, কাজলা, ভাঙ্গাপ্রেস, টিপু সুলতান রোড, নবাবপুর রোড, নারিন্দা, ফুলবাড়িয়া, বিবির বাগিচা, করাতিটোলা, মৈশুন্ডি, বনগ্রামসহ রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া, আটি, কালিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সঙ্কট চলছে। যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আফসার উদ্দিন বলেন, গ্যাস সঙ্কট ক্রমেই বাড়ছে। রমজানেও আমরা এ সঙ্কট থেকে রেহাই পেলাম না। সকালে থাকে তো দুপুরে নেই। আবার সন্ধ্যায় আছে তো রাতে নেই। আসলে গ্যাস কখন থাকবে আর থাকবে না-এই হিসেব করে তো আর চলা যায় না। মিরপুরের বাসিন্দা হোসনে আরা বলেন, সকাল ১০টার পর থেকে বিকাল পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। রমজানের সময় দুপুরের পর রান্না করতে হয়। তাহলে কিভাবে চলবে? এই এলাকার আরেক বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন বলেন, অনেক সময় সেহরীর সময়ও গ্যাস থাকে না। ফলে আগের রাতের ঠাণ্ডা ও বাসি খাবারই সেহরীর সময় খেতে হয়। সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের বিদু্যুত্ কেন্দ্রগুলোতে ১ হাজার ৩৭৮ মিলিয়ন ঘনফুট, সার কারখানায় ২৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট ও অন্যান্য খাতে ১ হাজার ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। সবমিলিয়ে ২ হাজার ৯৮৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ২ হাজার ২৬৮ মিলিয়ন ঘনফুট। ঘাটতি ৭১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। গত ৫ বছরে গ্যাসের উত্পাদন বাড়লেও তা চাহিদার তুলনায় কম। সেইসাথে অদক্ষ, ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে সঙ্কট কাটেনি। গত ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৬৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে। তবে একই সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্পাদন কমেছে। ফলে এই ৫ বছরে ৫১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে বাড়তি যোগ হয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।