অবশেষে রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২২:৫২
নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা ও তার বাবা-মাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার সিএমএম আদালতে দুদকের উপ-পরিচালক এসএম মফিদুল ইসলাম এ চার্জশিট দাখিল করেন। জানা গেছে, সাভার ট্রাজেডির পর দুদকের উপ-পরিচালক এম এম মফিদুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলমের যৌথ অনুসন্ধানে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে গত ১৫ জুন সাভার থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। সোহেল রানা ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে আসামি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার কমিশনের বৈঠকে ওই চার্জশিটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে তারা হলেন, রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা, রানার বাবা এক সময়ের তেল ব্যবসায়ী আবদুল খালেক, রানার মা মিসেস মর্জিনা বেগম, সাভার পৌরসভার মেয়র মো. রেফাতউল্লাহ, সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার মোহাম্মদ আলী খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিন বিভাগের অধ্যাপক আর্কিটেক্ট এ টি এম মাসুদ রেজা, সাভার পৌরসভার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (বর্তমানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মুন্সিগঞ্জ) উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসাইন, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, পৌরসভার সাবেক টাউন প্লানার ফারজানা ইসলাম, লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব, সাভার পৌরসভার সাবেক সচিব মো. আবুল বাসার, সাবেক সচিব (বর্তমানে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের রেভিনিউ অফিসার) মর্জিনা খান, ফ্যান্টম অ্যাপারেলস ও ফ্যান্টম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বজলুল সামাদ ও ইথার টেক্সটাইল লিমিটেডের মো. আনিসুর রহমান। অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, রাজউকের অনুমোদন না নিলেও ২০০৭ সালে স্থানীয় পৌরসভার মেয়রের কাছ থেকে ছয়তলা করার অনুমতি নিয়ে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রানা ভবনটির নির্মাণ শুরু করেন। তারপর সেটি ১০ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করেন। ২০০৭ সালের আগে জায়গাটি ছিল পরিত্যক্ত। পেছনে ছিল জলাশয়। ভবন নির্মাণের জন্য এগুলো দখল করে বালু ফেলে ভরাট করা হয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। এই কাজে পৌরসভার মেয়র, প্রকৌশলী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এতে ১ হাজার ১ শ’ ৩৫ জন শ্রমিক নিহত হন। আহত হন কয়েক শতাধিক। ঘটনার দিনই সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে ২৮ এপ্রিল সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত যাওয়ার পথে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।