বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নিয়ে সমালোচনা না করে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগে এই শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী সদস্য সেন্ডার লেভিন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে কংগ্রেশনাল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাংলাদেশি আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ককাস (বিএডিসি) নেতৃবৃন্দের বৈঠকে এই আহবান জানান সেন্ডার লেভিন।
কংগ্রেসম্যান লেভিন বলেন, সাভারের রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ১১শরও বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছিল। এর কারণ বাংলাদেশে শ্রমিকের তেমন অধিকার নেই, কারখানার নিরাপত্তাও নেই। এমনকি নিরাপদ ভবন ও পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও নেই। এসব বিষয় নিশ্চিত করে সরকার, পোশাক কারখানার মালিক, আন্তর্জাতিক ক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অংশ নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বিএডিসির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. নাজমুল আহসান পোশাক শিল্পের সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জিএসপি, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারসহ নানা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আসুন একসঙ্গে কাজ করে এ শিল্পকে গড়ে তুলি। আমরা প্রবাসীরা বটেই, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষে যারা আছেন তাদেরও বাংলাদের প্রতি রয়েছে গভীর ভালোবাসা। আসুন বাংলাদেশকে সহায়তা করি আর দু’দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াই। একসঙ্গে কাজ করলেই আমরা সফল হবো। তিনি বলেন, তাদের সংগঠন দু’দেশের সরকারি বেসরকারি নানা পর্যায়ে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনায় যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে কাজ করে যাবে। তিনি বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনার পাঠানো বিবৃতি পড়ে শোনান। বিবৃতিতে রাষ্ট্রদূত আশা করেন, ‘পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ হবে সারাবিশ্বের আইকন।’
অনুষ্ঠানে পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ’র পাঠানো প্রতিবেদন পাঠ করেন বিএডিসি প্রতিনিধি ড. জাকির। এতে এই শিল্পের সমস্যা, বিশেষ করে শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিকের মজুরি নিয়ে দ্বন্দ্ব, কারখানা ও ভবন নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত করণে চলমান কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
একইভাবে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও নইম আহমেদ পোশাক শিল্পের উন্নয়নে বর্তমানে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে স্থায়ীভাবে পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা ও শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। অনেক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও অল্প সময়ে এ বিষয়ে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স রাইটস কনসোর্টিয়াম, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটিসহ কয়েকজন সিনেটর ও কংগ্রেসম্যানের প্রতিনিধি।
ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, শ্রমিকের সম্মানজনক মজুরি, ভবন ও কারখানার নিরাপত্তা বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে পোশাক শিল্পকে সমৃদ্ধ করে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ সর্বত্র এ ধরনের অনুষ্ঠান করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।
