জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন হবে আলাদা প্রতীকে

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৪
জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের প্রতিটি পর্যায়ের নির্বাচনে আলাদা আলাদা প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত মঙ্গলবার কমিশন সভায় সব নির্বাচনের জন্য দুই শতাধিক প্রতীক পর্যালোচনা করে তা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে তা জারি করবে ইসি। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরো কিছুদিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা। বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৪০টি প্রতীক সংরক্ষিত রেখেছে ইসি। এসব প্রতীক থেকে নিবন্ধিত দল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও স্থানীয় সরকারের ভোটের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এ পর্যন্ত ৪০টি রাজনৈতিক দল প্রতীকসহ নিবন্ধিত রয়েছে। এছাড়া ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয়েছে জামায়াতের। ইসি কর্মকর্তারা ইত্তেফাককে জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সংরক্ষিত ১৪০ প্রতীক থেকে নিবন্ধিত দলের ৪২টি প্রতীকসহ মোট ৬৫টি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নিবন্ধিত ৪২টি রাজনৈতিক দলকে ৪২টি প্রতীক ছাড়া আরো ২৩টি প্রতীক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি স্তরের জন্য আলাদা প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখন জাতীয় সংসদে ৬৫টি, উপজেলায় ৪৬টি, সিটি, পৌর ও ইউপিতে ৩৪টি করে প্রতীক সংরক্ষণের চিন্তা-ভাবনা করছে ইসি। জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদের জন্য ১২টি, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ১০টি এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদের জন্য ১২টি প্রতীক চূড়ান্ত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য ১৪টি, ভাইস চেয়ারম্যান ১২টি, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য ১০টি এবং উপজেলায় সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য রাখা হচ্ছে ১০টি প্রতীক। পৌরসভার মেয়র পদের জন্য ১২টি, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০ এবং সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২ প্রতীক চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের জন্য ১২টি, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদের জন্য ১০টি এবং সাধারণ সদস্য পদের জন্য থাকছে ১২টি প্রতীক। এর বাইরে আরো ৩০টি প্রতীক সংরক্ষিত রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানান। এছাড়া ব্যালটে একাধিক প্রতীকে ভোট পড়লে ঐ ব্যালট পেপার বাতিল হবে। তবে একই প্রতীকে একাধিক সিল পড়লে তা বাতিল না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।