অতিরিক্ত ভাড়া নেবে বিআরটিসিও

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৮
পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রীদের কাছ থেকে এবার অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার নিয়ন্ত্রিত বাস বিআরটিসি। ঈদ উপলক্ষে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি টিকিটে ৫শ থেকে ৬শ টাকা বেশি নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। আগামী রবিবার থেকে বিআরটিসি’র অগ্রিম টিকিট ছাড়া শুরু হবে। ইতিমধ্যে বেশকয়েকটি কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়ার মূল্যে তালিকা টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে। কৌশলে টাঙ্গিয়ে দেয়া মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হবে। যদিও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিআরটিসির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু মন্ত্রীর ঘোষণাও মানছে না বিআরটিসি। এদিকে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বিচ্ছিন্নভাবে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এমনকি ঈদ নিয়ে আগাম টিকিট ছাড়ার কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি এই টার্মিনাল থেকে। বিআরটিসির অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার যুক্তি দেখিয়ে একাধিক টিকিট বিক্রেতা ইত্তেফাককে জানান, বিআরটিসি এতোদিন ধরে লোকসান গুণেছে। লোকসান এখন পুষিয়ে নেয়া ছাড়া উপায় নেই। তা না হলে বিআরটিসি’র গাড়ি চালানো সম্ভব হবে না। রাজধানীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও কল্যাণপুর বিআরটিসি বাস ডিপো ঘুরে দেখা গেছে, ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে বিআরটিসি। সবগুলো কাউন্টারে ভাড়ার তালিকা দিয়ে দেয়া হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে নতুন এ ভাড়ার তালিকায় থাকছে সারা বছরের লোকসান ওঠানোর লক্ষ্যমাত্রা। এতে নাজেহাল হতে হবে সাধারণ মানুষের। নিরূপায় হয়েই গুণতে হবে এ অতিরিক্ত ভাড়া। তবে অনেক কাউন্টারে যে মূল্য তালিকা দেয়া হয়েছে তার চেয়ে বেশি মূল্যে টিকিট নিতে হবে যাত্রীদের। ঈদ উপলক্ষে ২০ জুলাই পর্যন্ত যারা বাড়ি যাবেন তাদের পূর্ব নির্ধারিত মূল্যে ভাড়া দিতে হবে। ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৩০০ টাকা বেশি দিতে হবে। আর ২৩ জুলাইয়ের পরে হলেই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিতে হবে। ঈদ বাদে অন্য সময় রাজশাহী ও রংপুরগামী বিআরটিসি এসি বাসের ভাড়া নেয়া হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। একই গন্তব্যের দূরত্ব অনুসারে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে এবার ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। কল্যাণপুরের কাউন্টার ম্যানেজার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নিজস্ব যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, আমাদের সারাবছর লোকসান গুণতে হয়। বিআরটিসি বাস যারা লিজ নিয়েছেন, তাদেরকে সারাবছরই লোকসান দিতে হচ্ছে। ঈদের আগে সাধারণ ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া আদায় করা হয়। ঈদের সময় ভাড়া আদায়ে কোনোরকম ছাড় দেয়া হচ্ছে না। তাই যাত্রীদের কাছে মনে হচ্ছে ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। বিআরটিসি’র বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সংস্থাটির ডিজিএম (অপারেশন) রফিক তালুকদার বলেন, কোনো অজুহাতেই বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে না। বাড়তি ভাড়া আদায়ের সঙ্গে যে ম্যানেজারই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। টিকিট বিক্রির ঘোষণা নেই সায়েদবাদে ঈদ নিয়ে আগাম টিকিট ছাড়ার কোনো ঘোষণা নেই সায়েদবাদ বাস টার্মিনাল। এখনো অগ্রিম টিকিট ছাড়া হয়নি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে পরিবহন কোম্পানিগুলো টিকিট বিক্রি করছে। ঈদে যানজট ব্যাপক হবে, এ আশঙ্কায় গাড়ির সিডিউল ঠিক রাখা সম্ভব নয় বলে টিকিট বিক্রি করছে না বাস কোম্পানিগুলো। অগ্রিম টিকিট দিয়ে উল্টো যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে রাজি নয় তারা। এমনকি ঈদ নিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একাধিক বৈঠক হলেও সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন এ টার্মিনালের নেতারা। সায়েদাবাদ আন্ত:জেলা বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির নেতারা একথা স্বীকার করলেন। মালিক সমিতির নেতারা বলেন, টার্মিনালের শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে। কেউ নিয়ম মানছে না। মালিক সমিতি থাকলেও যেন নেই। সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে অর্ধশতাধিক পরিবহনের বাস সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ফেনী, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর ও বরিশাল জেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঈদের অগ্রিম টিকিট না ছাড়ার পরও অনেকেই টার্মিনালে ভিড় করছেন ঈদের টিকিট কিনতে।