মেলান্দহে কর্মসৃজনের অর্থ নিয়ে নয়-ছয়

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৫
জামালপুরের মেলান্দহে হতদরিদ্র কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের অর্থ নিয়ে নয়-ছয়ের ঘটনা এখন টক অব দ্যা মেলান্দহ। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৪হাজার ৯৫৭ জন হতদরিদ্র শ্রমিকের জন্য সর্বমোট ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ বরাদ্দকৃত অর্থের অর্ধেক নেয়া হয় দলীয়ভাবে। ফলে প্রতিটি শ্রমিককে ২শ’ টাকা মজুরি দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। এতে শ্রমিকদের কাছে বহু জনপ্রতিনিধিদের হেনস্থা হতে হয়েছে। জনগণের চোখে ফাঁকি দেয়ার জন্যে প্রকল্প কাজের স্থানে সাইনবোর্ডও লাগানো হয়নি। কুদাল-পাইচে ক্রয় ও মাটির রাস্তা সাপোর্টিং-এর নামে বরাদ্দকৃত ৪৪ লাখ ৫১ হাজার ২৪৮ টাকার ১০% কমিশন প্রতি ইউনিয়ন থেকে দেড় লাখ করে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা পিআইও অফিসে জমা দেয়ার কথা। কিন্ত ১১টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা কম-বেশি করে ১৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৮ টাকা জমা দেন। ১১ ইউনিয়নের মধ্যে দুরমুঠ, কুলিয়া, মাহমুদপুর, আদ্রা ও শ্যামপুর ইউনিয়নকে ননওয়েজ খাতে কাজ করেও পিসির টাকা গুনতে হয়েছে। চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে উত্তোলিত টাকার হিসাব-নিকাশ ও ভাগবাটোয়ারা নিয়ে পিআইও আ.লতিফ, সুপারভাইজার বোরহানউদ্দিনের সাথে চলছে দহরম-মহরম। এনিয়ে গোটা উপজেলার চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং উপজেলা পরিষদজুড়ে চলছে নানা কথা। অভিযোগ উঠেছে সুপারভাইজার বোরহানউদ্দিন পিসির দু’লক্ষাধিক টাকা পিআইও অফিসে জমা না দিয়েই হিসেবে গড়মিল করেছেন। এ ব্যাপারে পিআইও আ.লতিফ জানান-আপনি যা শুনেছেন সবই সত্য। তবে আমি কোন টাকা হাতে ধরিনি। আমার অফিস সহকারী রাসেল মাহমুদ ও বোরহান এ টাকার লেনদেন করেছেন। তার সাথে কথা বলুন। তাছাড়া বোরহানের চাকরির মেয়াদ শেষ। টাকা হেরফের হতেই পারে। এ ব্যাপারে সুপারভাইজার জানান-৩০জুন আমার চাকরির মেয়াদ শেষ। সকল ইউনিয়নের পিসির টাকা অফিসে জমা দিয়েছি। আমি টাকা নিয়ে উধাও হলে দু’লাখ কেন সমুদয় টাকা নিয়েইতো উধাও হতে পারতাম। উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব একেএম হাবিবুর রহমান জানান-হতদরিদ্রদের কোন টাকা আমি ভোগ করার পক্ষপাতিত্ব নই। চেয়ারম্যানরা দৃশ্যমান কাজ করেন না। এই হিসেবে দৃশ্যমান কাজ করার জন্য দলীয় বন্টন রাখা হয়েছিল। এতে কিছুটা হলেও কাজ হয়েছে। তবে ননওয়েজ কস্টের কিছু টাকা হেরফের হয়েছে।