স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া দিন-রাত অবিরাম বালি উত্তোলন ও পাচারের কারণে পার্কি সমুদ্র সৈকত বিপন্ন হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর পার্কি এলাকা জুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে বালি উত্তোলন ও অবৈধভাবে বেচাকেনার ব্যবসায় লিপ্ত একটি সংঘবদ্ধ বালি পাচারকারী চক্র। অভিযোগ উঠেছে, এই বালি পাচারকারী চক্রটি স্থানীয় একটি মহলের আনুকূল্যে সাম্প্রতিক সময়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
নগরীর কর্ণফুলী থানা এলাকার মনোরম সমুদ্র সৈকত পার্কির স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, পাচারকারীরা প্রতিদিনই পার্কি সমুদ্র তট এলাকার বিভিন্ন অংশ থেকে পণ্যবাহী সাম্পানে করে পাচার করছে বিপুল পরিমাণ বালি। এই তত্পরতা চলছে গত প্রায় ৫/৭ বছর ধরে। কিন্তু সমপ্রতি বালি পাচারের তত্পরতা আরো ব্যাপকতা লাভ করেছে। এই বালি পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পার্কি সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বিপন্ন হয়ে পড়ছে সমুদ্র সৈকত জুড়ে লাগানো বন-বিভাগের মনোরম ঝাউবন। এইসব ঝাউবন শুধুমাত্র দৃষ্টিনন্দন গাছই নয়, ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে রক্ষা করে থাকে পার্কি সমুদ্র সৈকত ও স্থানীয় উপকূলীয় অধিবাসীদের। স্থানীয়রা জানান, বেপরোয়া বালি পাচারের কারণে সংকুচিত হয়ে আসছে পার্কি সমুদ্র সৈকতের পরিধি। এর ফলে সমুদ্র জনবসতির আরো কাছাকাছি এসে গেলে উপকূলের আবাদি ভূমি এবং মানুষের ঘরবাড়ি লোনা পানি, স্ফীত জোয়ার এবং জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তারা জানান, শতাধিক সাম্পান-নৌকা প্রতিদিন এখান থেকে বালি বোঝাই করে সিইউএফএল ঘাটের কাছে গিয়ে বালি খালাস করছে। সেখান থেকে পাচারকারী চক্র ক্রেতাদের কাছে প্রতি ট্রাক বালি ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি করছে। ক্রেতারা এইসব বালি ডাম্পট্রাকে করে ডেলিভারি নিয়ে যাচ্ছে।
পার্কি এলাকার অধিবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুল আনোয়ার ইত্তেফাক-কে জানান, ইতিপূর্বে পার্কি এলাকার জনসাধারণ পাচারকারীদের বালি বোঝাই সাম্পান-নৌকা আটক করে পাচারকারীদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে মুচলেকার কথা ভুলে গিয়ে বালি পাচারে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
শঙ্খ নদও বিপন্ন:এদিকে পশ্চিম পটিয়ার জনসাধারণ অভিযোগ করেছেন, আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলার সীমানা বরকল ব্রিজ এলাকা থেকে রায়পুর এলাকা পর্যন্ত বালি পাচারকারী চক্র শঙ্খ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ১০/১২টি ভাসমান ড্রেজার বসিয়ে ব্যাপকভাবে বালি উত্তোলন করছে। এভাবে অতিরিক্ত বালি উত্তোলনের কারণে পাড় ভেঙ্গে ইতিমধ্যে বহু বাড়িঘর শঙ্খগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বালি পাচারকারীরা শঙ্খের বালি পশ্চিম পটিয়ার ভেল্লাপাড়া ক্রসিং এলাকায় এনে অবাধে বিক্রি করছে।
স্থানীয় জনগণ জানান, শঙ্খ নদের বিপন্ন দুই পাড় রক্ষায় সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করলেও বালি পাচারকারীদের বেপরোয়া বালি উত্তোলণের কারণে পানির স্রোত সহজেই নদীর ‘এমবেঙ্কমেন্ট প্রটেকশন’ ভেঙ্গে দিচ্ছে। ফলে পাড় রক্ষায় সরকারের ব্যয়িত অর্থের কোনো সুফল মিলছে।
