মিয়ানমারে তথ্য পাচারের অভিযোগ
বাংলাদেশ-মিয়ানমার উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে উপজাতি উগ্রবাদী রাখাইন সন্ত্রাসীদের তত্পরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা সীমান্তের বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ করে মিয়ানমারে পাচার ও সীমান্তে অস্থীতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের এদেশে ঠেলে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সীমান্তের এপার ওপারে চষে বেড়াচ্ছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল। হঠাত্ করে সীমান্তে তাদের বিচরণ নিয়ে জনমনে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।
সমপ্রতি সীমান্তের ঘুমধুম বিজিবি সদস্যরা পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩ জন উগ্রবাদী রাখাইনকে আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে। আটককৃতরা হচ্ছে রাঙ্গামাটি বসন্ত উপজেলার মঈনপাড়া গ্রামের বীরবাহ চাকমার ছেলে প্রকাশ চাকমা (৩৫) ও জ্ঞানরঞ্জন চাকমার ছেলে সুমই চাকমা (২৯)। ঘুমধুম সীমান্তের বেতবুনিয়া কোনারপাড়া এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ করা ভান্তের পোশাক পরিহিতা এ দু’জন উগ্রবাদীর নিকট থেকে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার করেছে ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, আমেরিকান ও মিয়ানমারের মুদ্রা। এছাড়াও ল্যাপটপ, ক্যামেরা, মোবাইল, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের প্রশাসনিক গাইড ম্যাপসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে ঘুমধুম বিজিবি’র সুবেদার মোজাম্মেল হক জানান। এর আগে মিয়ানমার থেকে একই পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করার সময় বিজিবি সদস্যরা অংথিং (২৯) নামে উগ্রপন্থী নাইন সিক্স নাইন সংগঠনের এক নেতাকে আটক করেছে। সে উক্ত সংগঠনের বুচিদং এলাকার সভাপতি বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের আরকান রাজ্যে চলমান জাতিগত সংঘর্ষ মোকাবিলায় সেদেশে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন নাইন সিক্স নাইন। এ সংগঠনের সদস্যরা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করে এ দেশের বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে। এসব তথ্য পাচারের মাধ্যমে সীমান্তে অস্থীতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে। ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, তুমব্রু বাজারে তাদের চলাফেরা ও আচার-আচরণে সন্দেহের সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানানো হয়েছিল। এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ জনমনে আতংক দেখা দিয়াছে।
উখিয়া সহকারী পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন মজুমদার জানান, গ্রেফতারকৃত এসব উগ্রপন্থী রাখাইনদের সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রিমান্ডে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করলেও তদন্তের স্বার্থে তা এখন প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। কক্সবাজার ১৭ বিজিবি’র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান জানান, সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। যে কারণে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী উগ্রপন্থী সদস্যরা অনুপ্রবেশ করেও রেহাই পায়নি। তিনি এ ব্যাপারে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত লোকজনের সহযোগীতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন।
