ক্লিনিক সিলগালা
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌর এলাকায় ‘এ্যাপোলো ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক’ নামের একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিত্সায় এসরাইল হোসেন (৫২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যূ হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মৃতের পরিবারের সাথে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সমঝোতা করলেও উপজেলা প্রশাসন ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় শনিবার বিকালে ওই ক্লিনিক সিলগালা করে দিয়েছে।
পত্নীতলা উপজেলার উত্তরাইল গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে এসরাইল হোসেনের পেটে অ্যাপেন্ডিসাইটিস দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে নজিপুরে এ্যাপোলো ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক-এর দালাল মাসুদ তার বাড়িতে গিয়ে ভাল চিকিত্সার প্রলোভন দেখিয়ে নজিপুরে এ্যাপোলো ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিকে নিয়ে এসে ভর্তি করায়। কোন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ছাড়াই ওই রাতে এসরাইল হোসেনের অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর থেকেই রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বিষয়টি গোপন রেখে রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর না করেই ক্লিনিকের ম্যানেজার, বয়, আয়া, দালাল মিলে হাতুরে চিকিত্সা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি অবস্থায় মারা যায় এসরাইল হোসেন। সাথে সাথে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে গোপনে সমঝোতা করে মৃতের পরিবার লাশ নিয়ে বাড়ি চলে যায়।
এসরাইল হোসেনের ভাতিজা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে মোটা অংকের টাকায় সমঝোতা হওয়ার পরে তারা লাশ নিয়ে বাড়ি চলে আসে। অভিযোগ উঠেছে, ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় এ বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার পরে লাশ বের করে দিয়ে ক্লিনিক তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায় ক্লিনিকের লোকজন। এ ব্যাপারে ওই ক্লিনিকের ম্যানেজার তুফানের সাথে মোবাইলে কথা বলা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ামাত্র মোবাইল বন্ধ করে দেয়। ক্লিনিকে ভুল চিকিত্সায় রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পত্নীতলা থানা পুলিশ রোগীর বাড়িতে গেলেও তারা কোন অভিযোগ করেননি। পত্নীতলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরিফুল ইসলাম বিষয়টি জানতে পেরে পত্নীতলা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এএসএম সিদ্দিকুর রহমানকে সাথে নিয়ে শনিবার বিকালে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ক্লিনিক সিলগালা করে দেয়। পত্নীতলা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
