রমজানকে পুঁজি করে রাজশাহীর বাজারে আবারো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নগরীর দুটি পয়েন্টে টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধের কারণে বাজারে টিসিবির তালিকাভুক্ত সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এছাড়া সবিজ ও মাছের দাম বেড়েছে।
রোজার মাসে সিন্ডিকেট করে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম যেন বাড়াতে না পারে এজন্য নগরীর পাঁচটি পয়েন্টে টিসিবি পণ্য বিক্রির জন্য ডিলার নিয়োগ করা হয়। এসব ডিলারদের নির্ধারিত স্থানে এক হাজার কেজি চিনি, দুইশ কেজি মসুর ডাল ও একশ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রির জন্য অনুমতি দেয় টিসিবি। প্রতিকেজি চিনি ৪০ টাকা, ছোলা ৪৪ টাকা, মশুর ডাল ৬৫ টাকা, খেজুর ১০০ টাকা ও প্রতিলিটার সয়াবিন বোতলজাত তেল ১০৭ টাকা বিক্রির নিয়ম বেঁধে দেয়া হয়। এসব পণ্য নগরীর লক্ষ্মীপুর, সাহেববাজার, রেলগেট, বিনোদপুর ও উপশহর এলাকায় পাওয়া যাবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। লক্ষ্মীপুর, সাহেববাজার ও বিনোদপুর এলাকায় এখন পাওয়া যাচ্ছে। দুটি পয়েন্টে পণ্য সরবরাহ গুটিয়ে নেয়া হয়েছে। ছোলা ও খেজুর বরাদ্দ থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এ দুটি পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব পণ্য বিক্রি করতে হবে। কিন্তু ডিলাররা বরাদ্দের পণ্য উত্তোলন করে সাড়ে ১১টা থেকে বড়জোর দুপুর ১টা পর্যন্ত অর্ধেক পণ্য বিক্রি করেন। এরপর আর টিসিবি পণ্য বিক্রি করতে ডিলারদের দেখা যায় না। তবে টিসিবি কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিলারদের অনিয়ম ও চাহিদা মোতাবেক পণ্য বিক্রি করতে না পারায় ২ জন ডিলারকে গুটিয়ে নেয়া হয়েছে।
নগরীর লক্ষীপুর মোড় এলাকার তরিকুল ইসলাম জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কিন্তু টিসিবি সাধারণ মানুষের পণ্য বিক্রি নিয়ে তামাশা করছে। পণ্য বিক্রি নিয়ে টিসিবির এমন দায়িত্বহীন কাজ মেনে নেয়া যায় না।
গতকাল শনিবার নগরীর সাহেববাজার, নিউমার্কেট, কোর্টবাজার, শালবাগান ও বিনোদপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে টিসিবির তালিকাভুক্ত নিত্যপণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। টিসিবির পণ্য বিক্রিতে ডিলারদের অনিয়মের কারণে তালিকাভুক্ত পণ্যের দাম বেড়েছে।
বাজারে সবিজর দাম কেজিতে বেড়েছে ২০/৩০ টাকা এবং মাছের দাম ৪০/৫০ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি আলু ২০/২২ টাকা, বেগুন ৫০/৫৫, পটল ৩০, করলা ৫০, বরবটি ৪০, লালশাক ২০, পুঁইশাক ২০, লাউ ২৫, কচু ৪০, ঢেঁড়স ৩০, শসা ৪০, তরই ৩০, পেঁপে ২৫, মিষ্টি কুমড়া ২০, মুলা ৩৫, লেবু প্রতিহালি ১৬, কাঁচাকলা হালি ১৬ ও প্রতিকেজি কচুরলতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৯০, আদা ২৫০, রসুন ৯০, মাঝারি রুই মাছ ৩৫০/৪০০, কাতল ৩০০/৩৬০, তেলাপিয়া ১২০/১৫০, পাঙ্গাস ১৩০, চিংড়ি ৩৫০/৭৫০, ইলিশ ৫৫০/৬০০ টাকা, চেলা ২০০, টেংড়া ৪২০/৪৮০, বোয়াল ৪০০, টাকি ২৫০, শিং ৭০০, মৃগেল ১৯০ ও বাছা ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট চাল ৪৫ টাকা, আটাশ ৪০, স্বর্ণা ৩৬ টাকা, পারিজা ৩৫ টাকা, বাসমতি ৬০ টাকা, আতপ ৭০/৮০ টাকা। গমের আটা ৩০ ও সুজি আটা ২৮ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১১৫, খোলা ১০৫, সরিষা খোলা ১৮০ ও বোতলজাত ২২০, খোলা লবণ ১০ টাকা ও প্যাকেটজাত ২৫ টাকা; মসুর ডাল ৮০, বুটের ডাল ৭০, খেসারি ৪০, মাসকালাই ডাল ৯০, মুগের ডাল ১২০, অ্যাঙ্কর ৪৮ ও জিরা ৩০০ টাকা; ডিম প্রতিহালি ২৬, ছোলা ৭০ টাকা; ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪৫, দেশি ৩০০, সোনালী ২০০ এবং কক ১৮০ টাকা; গরুর মাংস ২৭০ টাকা এবং খাসির মাংস ৪৫০ ও ছাগলের মাংস ৩৫০ টাকা। রমজানের শুরুতে শুধু টিসিবি পণ্য নয় প্রত্যেক পণ্যের দাম কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ঊর্ধ্বে ৪০ টাকা।
ডিলার রাহিম জানান, টিসিবি চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। তিনি স্বীকার করেন, প্রতিদিন সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টায় টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু এবং দুপুর ১টার মধ্যে গুটিয়ে নেয়া হয়। এ ব্যাপারে টিসিবি’র রাজশাহী জোনের সংরক্ষণ ও বিক্রয় সহকারী নূরনবী কুসুম বলেন, পুরো রমজান মাসজুড়ে এসব পণ্য নগরীর পাঁচটি পয়েন্টে সরবরাহ করার জন্য প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়। পরে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে।
