একজন বিস্ময়কর বায়োনিক ম্যান

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৪, ২০:৪২
জন্মের সময় দুই হাঁটুরই ফিবুলা হাড় ছিল না। সে সময় শিশুটিকে বাঁচাতে তাই হাঁটুর নিচ থেকে দুই পা-ই বাদ দিতে হয়। তার পর হয়তো হাঁটা সম্ভব ছিল কিন্তু দৌড়! এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই বিস্ময় মানব একজন দৌড়বিদ হিসেবে বিশ্বের সামনে নিজেকে তুলে ধরেছেন। তার কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম অসুখের কারণে মাত্র এক বছর বয়সের সময়ই পিস্টোরিয়াসের হাঁটুর নিচ থেকে দুই পা কেটে ফেলতে হয়। তারপরও তিনি দমে যাননি। তার পর থেকেই কৃত্রিম পায়ের (কার্বন ফাইবার ব্লেড) ওপর ভর করেই দৌড়াচ্ছেন প্যারাঅলিম্পিকের চারবারের চ্যাম্পিয়ন। ব্লেডের কারণে পিস্টোরিয়াস বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন, এই মর্মে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন তাকে সামর্থ্যবানদের কাতারে ফেলতে চায়নি? তাই মামলা করতে হয়েছিল পিস্টোরিয়াসকে। দক্ষিণ আফ্রিকার অস্কার পিস্টোরিয়াস। তিনি দৌড়চ্ছেন, কারণ তিনি দৌড়তে চেয়েছিলেন। একটি পা-ও না থাকা সত্ত্বেও। অলিম্পিকে প্রথম এমন প্রতিযোগী হিসেবে দৌড়েছেন তিনি। প্রতিবন্ধী, সুস্থ, অলিম্পিক, প্যারা অলিম্পিক এসব ভেদাভেদে বিশ্বাস ছিল না তার। বিশ্বাস ছিল স্বপ্নে। চেয়েছিলেন তার পরিচয় হোক শুধুই অ্যাথলেট হিসেবে। সম্বল বলতে ছিল তার অদম্য ইচ্ছেশক্তি। ইচ্ছে এবং জেদ, এই দুয়ের মিশেলে আজ তিনি তার স্বপ্নকে ছুঁতে পেরেছেন। মূল অলিম্পিকে দৌড়ের স্বপ্নটা বুকের মধ্যে পুষে রেখেছিলেন ‘ব্লেড রানার’। লন্ডনটা অস্কারের কাছে সেই বহু দিনের ইচ্ছেপূরণের অলিম্পিক ছিল। ৪০০ মিটার দৌড়ের সেমিফাইনালে পৌঁছে ছিলেন। দৌড়েছেন ৪০০ মিটার রিলের ফাইনালেও। এর ফলে ইতিহাসের পাতায় তার নামটি লেখা হয়ে গেল। কারণ তিনি সাধারণ কোনো অ্যাথলেট নন, তার দুই পা নেই। এত বাধা পেরিয়ে অলিম্পিকে দৌড়ে বেশ খুশি তিনি। তবে প্রথমে হিটে বাদ পড়ে ভীষণ হতাশ ছিলেন পিস্টোরিয়াস। বেশ আবেগী কণ্ঠে বলেন, ‘এটা খুবই হতাশার। কারণ গত বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন্সশিপেও আমরা অর্জন করেছিলাম দ্বিতীয় স্থান। আমাদের সবাই বেশ আন্তরিক। গত পাঁচ-ছয় বছর এক সঙ্গে ট্রেনিং নিয়েছি আমরা।’ পিস্টোরিয়াসের প্রথম চমক ছিল ৪০০ মিটারে। নকল পা লাগিয়ে দৌড়ের সময় বাড়তি সুবিধা পান এমন অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। আইওসি তো তাকে কেবল ‘প্যারা অলিম্পিক’ আসর বাদে অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেওয়ার অনুমতিও দিতে চায়নি। অনেক আইনি লড়াই করে সবলদের পাশাপাশি দৌড়ানোর অনুমতি আদায় করেছেন পিস্টোরিয়াস। দুর্ঘটনা কিংবা যুদ্ধে যারা পা হারিয়েছেন তাদের যন্ত্রণায় দগ্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। অন্তত পিস্টোরিয়াসকে দেখে তাদের মানসিক হীনম্মন্যতায় ভোগার বিষয়টি দূরীভূত হওয়া উচিত। পিস্টোরিয়াসকে বলা হয় পা-বিহীন ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম মানব।