শব্দের মাঝেই খুঁজে বেড়িয়েছেন নিজেকে। আনন্দ, দুঃখ, রাগ, অনুরাগ সব কিছুরই আছরে পরে তার খাতা-কলমে। সময়ের নানা চিত্র ফুটে উঠে তার কবিতার ক্যানভাসে। তেমনই একজন খ ম শফিকুল ইসলাম। এই প্রজন্মের জন্য তার গল্প তুলে ধরেছেন আহসান রনি
নিজের অনুভূতি প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে লেখালেখি। আর নিজের অনুভূতি প্রকাশে এই লেখালেখিই হয়ে উঠে কখনো সকলের মাঝে অনবদ্য। মানুষের চিন্তায় বেড়ে উঠা কবিতাই জন্ম দেয় একজন কবিকে। তেমনই একজন খ ম শফিকুল ইসলাম। তিনি এদেশের বড় বড় আন্দোলনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। নিজে দেখেছেন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তীতে এই স্বাধীন বাংলাদেশ। তাই তো তার মধ্যে রয়েছে বিদ্রোহের আগুন। স্বাধীন দেশে কোনো অনিয়ম, কোনো অত্যাচার দেখলে চুপ করে বসে থাকেন না তিনি। কবিতার মাধ্যমে বিদ্রোহ প্রকাশ করেন এই কবি। ১৯৭২ সালে এসএসসি পাস করেন তিনি। যুদ্ধের দামামা এই কিশোরকে নতুনভাবে বাঁচতে শিখিয়েছিল। নিজের অধিকার আদায়ের জন্য বিদ্রোহ করতে শিখিয়েছিল। তরুণ সফিকুলরা সকলের মধ্যে নিজেদের মনের কথা তুলে ধরার জন্য মঞ্চস্থ করেছিলেন নাটক ‘রক্তাক্ত বিপ্লব’। ১৯৭৯ সালে বিয়ে করলেও তার মধ্যে লেখাপড়া বা সংসারের প্রতি খুব বেশি আগ্রহ ছিল না। এই সময় তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন। মুরাদপুর হাইস্কুলে দীর্ঘ ৬ বছর শিক্ষকতা করেছেন তিনি। তরুণ হিসেবে তখনকার দিনে তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করতেন। তার লেখা অনেক গল্প, কবিতা এবং উপন্যাস তত্কালীন ‘দৈনিক সমাচার’ পত্রিকায় প্রকাশ হতে শুরু করে। কিন্তু তিনি বরাবরই প্রচারে বিশ্বাসী না। সফিকুল তাই নিজের লেখা খুব বেশি প্রকাশ করেননি। তবুও তার লেখা কবিতা নিয়ে ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘চরমপত্র’। এরপর তিনি নিজের ভবঘুরে বৈশিষ্ট্য পরিহার করে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যে নিজেকে যুক্ত করেন। তবে তার সাহিত্য চর্চা কখনও থেমে থাকেনি। তার জীবন অনেক সংগ্রামের মধ্যে অতিবাহিত হলেও তিনি কখনও সাহিত্য চর্চা থেকে দূরে সরে যাননি। ২০০৩ সালে বের হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেম, প্রগলভ’। বাংলা ১৪১০ সালের পহেলা বৈশাখ প্রকাশিত হয় বইটি। লেখালেখি চালিয়ে গেলেও দীর্ঘ ১০ বছর পর ২০১৩ সালে বের করেন নিজের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘দ্রোহের গান’। এই ১০ বছরে তিনি নানা বিষয়ে লেখালেখি করেছেন। প্রচুর পড়াশোনা করেছেন দেশ ও ধর্ম নিয়ে। সর্ব ধর্মবাদে বিশ্বাসী তিনি। তার মতে, ধর্ম যারা সৃষ্টি করেন ধর্ম আসলে তাদের। মানুষের ধর্ম প্রকৃত ধর্ম মানবতা এবং মানুষের বৈশিষ্ট্য মনুষ্যত্ব। তিনি বিভিন্ন ধর্ম বিষয়ে প্রচুর লেখালেখিও করেছেন। তবে এখনও বই আকারে প্রকাশ করেননি। তবে খুব তাড়াতাড়ি হয়তো সেগুলো প্রকাশ করবেন তিনি। সফিকুল রাজনীতির সাথে জড়িত নন। তবে তিনি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কৃতিত্বের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি তাই মুজিবকে নিয়ে শুরু করেছেন তার কাব্যগ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনাখ্যান কাব্য’। এটি এমন একটি লেখা যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার প্রতিটি কাজের কথা উল্লেখ থাকবে। তিনি এই কাব্যটি এখনও লিখে যাচ্ছেন। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর কৈশোরের পর্যায়ে আছে লেখাটি। এই কাব্যের প্রথম অংশটি তিনি বিভিন্ন মহলে দেখিয়েছেন এবং প্রচুর প্রশংসা পেয়েছেন। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই কবিতাটি দেখেছেন এবং শেষ করতে অনুরোধ করেছেন। তরুণ প্রজন্ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সফিকুল বলেন, ‘প্রজন্মের মধ্যে দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাব। তারা কোনো কিছু পরিকল্পনা করে করে না।’ তিনি নতুন প্রজন্মকে দেশের নেতৃত্বে দেখতে চান, যারা শুধু দেশের উন্নতিতে কাজ করবে। দেশপ্রেমী এই মানুষটি ঢাকার জুরাইনে বসবাস করেন। স্ত্রী নাজমা আখতার গৃহিণী এবং ছেলে রাকিব আদনান পেশায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও মেয়ে ইসরাত সীমাসহ তার পারিবারিক আবহ । ‘প্রজন্ম’-এর পক্ষ থেকে এই মানুষটির জন্য রইল শুভকামনা।
খ ম শফিকুল ইসলাম
ডাকনাম :শফিক
জন্ম তারিখ ও স্থান :৭ এপ্রিল, ফতেহবাদ, কুমিল্লা
মায়ের নাম :মৃত ফিরোজা খানম
বাবার নাম :মৃত সিরাজুল ইসলাম খন্দকার
প্রথম স্কুল :ফতেহবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিল্লা
প্রিয় মানুষ :বাবা-মা
প্রিয় উক্তি :মানুষের ধর্ম মানবতা আর মানুষের বৈশিষ্ট্য মনুষ্যত্ব
প্রিয় পোশাক :শার্ট-প্যান্ট, পান্জাবি
অবসর কাটে যেভাবে :চিন্তা-ভাবনা করে, বই পড়ে
সাফল্যের সংজ্ঞা :অপরের সুখ-দুঃখ নিজের করে নিয়ে সরল, সত্ ও আদর্শবান জীবনযাপন করতে পারাই সাফল্য।
