আবারো র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গতকাল সোমবার এ আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। এইচআরডব্লিউ’র ওয়েবসাইটে গতকাল প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ:ডিসব্যান্ড ডেথ স্কোয়াড’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে বলা হয়, র্যাব পদ্ধতিগত ও সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডে জড়িত। র্যাবকে ভেঙে না দেয়া পর্যন্ত, ব্যাটেলিয়ন থেকে সব সামরিক কর্মকর্তা ও সেনা সদস্যদের সদস্যপদ বাতিল করে এটিকে সম্পূর্ণ বেসামরিক ফোর্সে রূপান্তরেরও আহ্বান জানিয়েছে তারা। এর আগে গত ১৪ মে র্যাব ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল এইচআরডব্লিউ।
তবে এইচআরডব্লিউ’র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে র্যাবের মুখপাত্র লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, র্যাব গঠনের পর থেকেই এইচআরডব্লিউ পেছনে লেগে আছে। তারা কোন জায়গা থেকে তথ্য পায়, সেই তথ্যের সত্যতাই বা কি? আর র্যাব ভেঙে দেয়ার এ ধরনের আহ্বান এবারই প্রথম নয়, কিছুদিন পরপরই তারা এ ধরনের আহ্বান জানায়। ষড়যন্ত্রমূলকভাবেই এটা করা হচ্ছে।
এইচআরডব্লিউ’র বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্য-প্রমাণ বলছে, গত এপ্রিলে চুক্তি অনুযায়ী ৭ জনকে হত্যার ঘটনায় র্যাব দায়ী। ক্ষমতাসীন দলের এক সদস্যের নির্দেশে তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয। র্যাব কীভাবে ডেথ স্কোয়াড হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তার আরেকটি নমুনা এটি।
এইচআরডব্লিউ’র এশীয় অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, র্যাব পুনর্গঠন এবং ফোর্সটিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু সেটা করতে তারা সম্পূর্ণরূপেই ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, জবাবদিহিতার অভাব র্যাবকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পথ করে দিচ্ছে। ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, র্যাব এখন সংস্কারের বাইরে চলে গেছে। দ্রুত এ র্যাবকে বিলুপ্ত করতে হবে।
এ বিষয়ে এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ এই বাহিনীকে ধ্বংস করার জন্য তাদের চক্রান্ত চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই চিঠি তাদের চক্রান্তেরই অংশ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সরকার র্যাব গঠন করেছে, সরকারের সিদ্ধান্তেই এই বাহিনী পরিচালিত হয়। জনগণের নিরাপত্তার জন্য বাহিনীটি কাজ করে। বিদেশি কোন সংস্থার সিদ্ধান্তে র্যাব বিলুপ্ত হবে না। তিনি বলেন, বিশ্বের বহু জায়গায় ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এইচআরডব্লিউ’র সেদিকে কোন নজর নেই। এইচআরডব্লিউ’র বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৪ সালে র্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ১০ বছরে র্যাব ৮ শতাধিক হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
