পদ্মায় উল্টো স্রোতে মাওয়া ৩ নং ফেরিঘাটে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ওই ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় আবার চালু হয়েছে। এর পূর্বে সোমবার রাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১০টি ফেরি মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার চলাচল শুরু করেছে।
বিআইডব্লিউটিসির মাওয়া অফিসের ম্যানেজার (বাণিজ্য) সিরাজুল হক জানান, সপ্তাহখানেক ধরে পদ্মায় উল্টো স্রোতের কারণে মঙ্গলবার সকাল হতে মাওয়া ৩ নং রো রো ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে ফেরিঘাটের র্যাম্পের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে ঘাটটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। র্যাম্পটি ক্রমশ পদ্মায় দেবে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনা এড়াতে বেলা ১১টা হতে ৩ নং রো রো ফেরিঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়। রো রো ফেরি পল্টুনটিকে আরো উপরের দিকে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। রো রো ঘাট বন্ধ থাকায় এ নৌরুটে চলাচলকারী ৩টি রো রো ফেরিও চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ রো রো ফেরি অন্য সাধারণ ঘাটে ভেড়ানো সম্ভব হলেও লোডিং আনলোডিং সম্ভব নয়। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকাল ৩টার ঘাটটি সচল হলে রো রো ফেরি চলাচলা শুরু হয়।
এদিকে সোমবার রাতে পদ্মায় প্রচণ্ড ডেউয়ের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৭টি ডাম্প ফেরিসহ ১০টি ফেরি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পুনরায় চলাচল শুরু হয়েছে। মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের ১৬ ফেরির মধ্যে এখন সবক’টিই সচল রয়েছে। বর্তমানে পদ্মায় স্রোতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। এ অবস্থা থাকলে ঈদে ডাম্প ফেরিসহ সকল ফেরি চলাচলে তেমন কোন অসুবিধা হবে না বলে দাবি করেন ম্যানেজার বাণিজ্য সিরাজুল হক।
এদিকে দফায় দফায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটে দেখা দিয়েছে যানজট। উভয় ঘাটে ৬ শতাধিক যানবাহন আটকা পড়েছে পারাপারের অপেক্ষায়। মাওয়া ঘাটে দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক অপেক্ষা করছে। বিআইডব্লিউটিসি বলছে, সবক’টি ফেরি মঙ্গলবার বিকাল থেকে সচল হয়েছে। রাতের মধ্যেই যানজট কমে যাবে।
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, মাওয়া-কাওরাকান্দি নৌ-রুটে তীব্র স্রোতের কারণে পদ্মা এখনো উত্তাল। ঢেউয়ের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকটে না পেরে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের ১৬টি ফেরির মধ্যে গত সোমবার রাত ৯টা থেকে ৭টি ডাম্প ফেরি ও রাত সাড়ে ১১টা থেকে কে-টাইপ ফেরি বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার ভোর রাতে ৭টি ডাম্ব ফেরি ও ১টি কে-টাইপ ফেরি চলাচল শুরু হলেও যেকোন মুহূর্তে বন্ধের শংকা রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাওড়াকান্দি ঘাটে তীব্র যানজট বিদ্যমান ছিল।
বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএসহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরজানাজাত পার থেকে মাওয়া ঘাট সংলগ্ন এলাকায় পর্যন্ত তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও তীব্র স্রোতের কারণে যেকোন মুহূর্তে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে ডুবোচর
আটকে যেতে পারে ঈদ প্রস্তুতি
রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, বর্ষার স্রোতের তোড়ে পলি ও বালু জমে দৌলতদিয়া চ্যানেল ভরাট ও সরু হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়ে নস্যাত্ করে দিতে পারে কর্তৃপক্ষের ঈদ প্রস্তুতি। পাশাপাশি দৌলতদিয়া চ্যানেলের মুখে পলি জমে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় ইতিমধ্যে ফেরি আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা যায়, নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্বের সৃষ্টি হওয়া ডুবোচরগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। ফেরি চলার জন্য দেয়া বয়া বাতি বা মার্কা ঠিকমত না থাকায় ফেরি চলাচলের সময় এসব ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে। তাছাড়া এ নৌ-রুটে চলাচলকারী রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, শাহ মখদুম ও কেটাইপ ফেরি কুমারী অধিক পুরনো হওয়ায় ইঞ্জিনের ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে আংশিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীব্র স্রোতের তোরে ডুবোচরে আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ কারণে বর্তমানে এই নৌপথে সাবধানে ধীরগতিতে ফেরিগুলো চালাতে গিয়ে স্বাভাবিক ফেরি পারাপারে সময় লাগছে অনেক বেশি। এতে ফেরির ট্রিপ সংখ্যাও আগের চেয়ে কমে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আসন্ন ঈদে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে কর্তৃপক্ষকে হিমসিম খেতে হবে।
বিআইডব্লি¬উটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চ্যানেলে পলি জমে ডুবোচরের বিষয়টি আমলে নিয়ে দৌলতদিয়ায় বিকল্প চ্যানেল তৈরির কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। দৌলতদিয়ার চ্যানেলটি এমনিতেই সরু ওয়ানওয়ে। পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সাথে প্রচণ্ড স্রোত দেখা দিয়েছে। স্রোতের তোড়ে উজানের বালু ও মাটি জমে অ্যাপ্রোচ চ্যানেলের প্রবেশ মুখের কাছে ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে যেকোন সময় চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
