বিদায় মাহে রমজান

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৪, ২৩:০১
আজ ২৪ রমজান। দ্বিতীয় হিজরীর ২৪ রমজান খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমাতুয্ যাহ্রা রাদিআল্লাহু তা‘আলা আন্হার শাদী হয় আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত ‘আলী করমাল্লাহু ওয়াজহাহুর সঙ্গে। তখন হযরত ফাতিমার বয়স ১৯ বছর আর হযরত ‘আলীর বয়স ২৪ বছর। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বদরের যুদ্ধ থেকে বিজয়ী বেশে সাহাবায়ে কেরামসহ মদীনা মনওয়ারায় ফিরে আসেন ২২ রমজান। ১৭ রমজান বদর প্রান্তরে যুদ্ধ চলাকালেই তিনি কন্যা হযরত রুক্ইয়ার ইন্তিকালের খবর পেয়েছিলেন। ২২ রমজান মদীনা মনওয়ারা ফিরে তিনি তাঁর ছোট মেয়ে ফাতিমার শাদীর ঘোষণা দিলেন। বদরে বিজয়ের আনন্দধারায় এই শাদীর ঘোষণা এক নতুন মাত্রা যোগ করলো। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাঁর নয়নমণি কন্যা হযরত ফাতিমা রাদিআল্লাহু তা‘আলা আন্হার নিকট এই শাদীতে সম্মতি আছে কিনা তা জানতে চাইলে হযরত ফাতিমা (রাদি.) বললেন: আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল যাতে রাজী আমিও তাতে রাজী। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম এই শাদী মুবারকের খুতবায় বললেন: ফাতিমাকে ‘আলীর সঙ্গে শাদী দেবার নির্দেশ আমি আল্লাহ্র কাছ থেকে পেয়েছি। তোমরা সাক্ষী হও যে, আমি চারশ’ মিস্কাল রূপার মুহ্রানার ইওয়াজে ফাতিমাকে ‘আলীর সঙ্গে বিয়ে দিচ্ছি যদি ‘আলী তা কবুল করে। তিনি কথাগুলো ‘আলীকে শুনিয়ে বললেন, ‘আলী! তুমি কি এটা কবূল করছো। হযরত ‘আলী বললেন: আল্হামদুলিল্লাহ্, আমি আল্লাহ্র সব নিয়ামতের শোকর গুজারি করছি এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি তাকে কবূল করলাম। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন: আল্লাহ্ তোমাদের মিলন দান করুন, তোমাদের চেষ্টাকে ফলবতী করুন, তোমাদের উপর বরকত বর্ষণ করুন, তোমাদের পবিত্র সন্তান-সন্ততি দান করুন। এরপর এক ঝুড়ি খেজুর লুট করে নিতে বললেন। এই নবদম্পতিকে বাসরঘরে এগিয়ে দিয়ে তিনি তাঁদের জন্য দু’আ করলেন এই বলে: বিসিমল্লাহি ওয়া বারাকাতিহি। তিনি হযরত ‘আলীকে বললেন: আপন স্ত্রীর সমীপবর্তী হও। আর ফাতিমাকে বললেন: মা, আমার বংশের উত্তম ব্যক্তির সঙ্গে তোমার বিয়ে দিলাম। এখানে উল্লেখ্য যে, এই রমজানেই সাদাকায়ে ফিত্র ওয়াজিব হয়। ঈদুল ফিত্র এবং ঈদুল আয্হার সালাত ধার্য হয়।