টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া পতিতাপল্লী থেকে উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া যৌনকর্মীদের পুনর্বহাল করার দাবিসহ তাদের উচ্ছেদকারীদের বিচারের দাবি নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেনের সাথে সাক্ষাত্ করেন। জেলা প্রশাসক তার সম্মেলন কক্ষে তাদের সাথে মতবিনিমিয় করেন। এ সময় সেক্স ওয়ার্কার নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি প্রদান করেন নেটওয়ার্কের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহনাজ বেগম। স্মারকলিপিতে তাদের পুরোনো আবাসস্থল পুনরায় ফিরিয়ে আনাসহ ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও দাবি জানানো হয়। অভিযোগ করা হয়, তাদের দেহ বিক্রির টাকায় কেনা জমি দখলের উদ্দেশ্যেই একটি মহলের লোকজন গত ১০ জুলাই পতিতাপল্লীতে যায় এবং তাদের তিন ঘন্টার মধ্যে পল্লী ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। ১২ জুলাই সন্ধ্যায় পতিতাপল্লীর বিদ্যুত্ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় এবং যৌনকর্মীরা পল্লী না ছাড়লে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। এ অবস্থায় যে যার মতো তাদের কিছু কিছু মালামাল নিয়ে প্রাণভয়ে পতিতাপল্লী ছেড়ে যায়। পথে মালামালও লুটপাট করে নেয় সন্ত্রাসীরা। প্রায় দুইশ’ বছরের পুরোনো পতিতাপল্লী থেকে যৌনকর্মীদের উচ্ছেদে প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপিতে উচ্ছেদকারীদের শাস্তির দাবি করা হয়। কোনভাবেই যাতে কেউ এই পতিতাপল্লীর জায়গা অবৈধ দখলে নিতে না পারে সেজন্য প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।
জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাত্কারীদের মধ্যে ছিলেন অ্যাকশন এইড, কেয়ার বাংলাদেশ, সেভ দ্যা চিলড্রেন, নারীপক্ষ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, দুর্বার নারীসংস্থা কনসোর্টিয়াম, আইন ও শালিস কেন্দ্র, আরডিপিও, ব্লাস্টসহ বিভিন্ন বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থার নেতৃবৃন্দ।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। পরে প্রতিনিধি দল টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদূর রহমান খান মুক্তি, পাবলিক প্রসিকিউটর আকবর আলী খানের সাথে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন এবং যৌনকর্মীদের পুনর্বহালসহ উচ্ছেদকারীদের শাস্তি প্রদানের বিষয়ে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।
