তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে গতকাল বুধবার সকাল থেকে দিনভর রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বহুল আলোচিত ‘তুবা গ্রুপের’ ৫টি কারখানার প্রায় এক হাজার শ্রমিক। তাদের বকেয়া ৩ মাসের মজুরির সমাধান না হলে আজ বৃহস্পতিবার আবার অবস্থান পালনের ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিকরা। গতকাল সন্ধ্যায় বিজিএমইএ’র বৈঠকে শ্রমিকদের মজুরির একটি অংশ আগামী শনিবার পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ’র লেবার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আহাদ আলী আনসারী। এর আগে তার উপস্থিতিতে একাধিক বৈঠকে এসব কারখানার শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের কথা বলা হলেও কার্যত মজুরি পরিশোধ হয়নি। এ বিষয়ে আহাদ আনসারী বলেন, ব্যাংক টাকা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই টাকা তুবা গ্রুপেরই অন্য কারখানা চালাকি করে ব্যাংক থেকে নিয়ে যায়। ফলে এসব কারখানার শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।
শ্রমিক, বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় অবস্থিত তায়েব ডিজাইন, তুবা টেক্সটাইল মিল, মিতা ডিজাইন, তুবা ফ্যাশন ও বুকশান গার্মেন্টস লিমিটেডের দেড় সহস্রাধিক শ্রমিক গত তিন মাস থেকে মজুরি অন্যান্য ভাতা পাচ্ছেন না। তুবা গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সাভারে আগুনে পুড়ে ১১২ শ্রমিক নিহত হওয়া তাজরীন ফ্যাশন্স। ওই দুর্ঘটনার দায়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন এখন জেল হাজতে। ফলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম।
শ্রমিকরা জানান, গত মে মাস থেকে তাদের মজুরি বকেয়া। বকেয়া মজুরির দাবিতে এর আগেও একাধিকবার তারা রাস্তায় নেমেছেন। সর্বশেষ গত ২৩ জুন বিজিএমইএতে কারখানা কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও বিজিএমইএ’র প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে চলতি মাসের ২৬ তারিখের মধ্যে বকেয়া মজুরি পরিশোধের বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। ওই চুক্তিতে তুবা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার এবং বিজিএমইএ’র প্রতিনিধি হিসেবে আহাদ আনসারী স্বাক্ষর করেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মে মাসের মজুরি গত ৩ জুলাই, জুনের মজুরি ১৫ জুলাই এবং চলতি মাসের ১৫ দিনের মজুরি ও ঈদ বোনাস আগামী শনিবার (২৬ জুলাই) পরিশোধের কথা। কিন্তু শ্রমিকরা এখনো কোন টাকা পাননি।
এই সমঝোতা চুক্তিতে শ্রমিক নেত্রী ও আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নাজমা আক্তারও স্বাক্ষর করেছেন। গতকাল বিক্ষোভকালে দুপুরে তিনি ঘটনাস্থলে এলে শ্রমিকরা তাকে ‘মালিকপক্ষের দালাল’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধেও শ্লোগান দেন। এ সময় বিক্ষোভরত শ্রমিকরা তাকে বিজিএমইএ ভবনে প্রবেশ করতে দেননি। শ্রমিকরা মূল গেটে অবস্থান নিয়ে কাউকে বিজিএমইএ ভবনে প্রবেশ করতে বা বের হতে দেননি।
‘তাইফ ডিজাইনে’র লাইন ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে বলেন, আমাদের একের পর এক তারিখ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বেতন দেয়া হচ্ছে না। এই তিনটা মাস খুব কষ্টে গেছে। ঈদ চলে এসেছে। কিন্তু কোন টাকা নেই। চোখে-মুখে রাজ্যের হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, কীভাবে কী করব কিছু জানি না!
এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সভাপতি ইত্তেফাককে বলেন, শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক। কিন্তু তাদের পাওনা পরিশোধ করার দায়িত্ব মালিকের। মালিক দেলোয়ার হোসেন যেহেতু জেলে সে জন্য ব্যাংকও এগিয়ে আসছে না। ফলে একটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
