পুলিশের কতিপয় সদস্যের চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘দুষ্টু’ লোকেরা সব স্থানে আছে। আশা করি আসন্ন ঈদুল ফিতরে তারা এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবে। তবে তিনি বলেন, যে সব পুলিশ সদস্যের নামে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, ঈদে মহাসড়কগুলোতে পুলিশ চাঁদাবাজি করছে। একই অভিযোগ ফুটপাতের হকারদেরও। পুলিশের এ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দৃশ্যমান কোনো অপরাধ দেখলেই সরকার ব্যবস্থা নেয়।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়কে যানজট নিরসন, টিকেট কালোবাজারি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজ, মলম পার্টির দৌরাত্ম্য ঠেকাতে প্রশাসন তত্পর রয়েছে। সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, টঙ্গী, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ, বিশৃঙ্খলা বা কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হতে পারে সেদিকে কঠোর নজরদারি রয়েছে। পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া যানজট যেন না হয়, সে দিকে নজর রাখতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় ঈদগাহসহ সারাদেশে প্রধান প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠানের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে। ঈদের ছুটিতে শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া মানুষের বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানায় চুরি ও ডাকাতিরোধে পুলিশ সজাগ থাকবে। বাস, ট্রেন বা লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী যেন ওঠানো না হয়, সে দিকেও লক্ষ্য রাখবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, আইজিপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আনসার ও ভিডিপি’র মহাপরিচালক, র্যাব মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনার, বিজিএমইএ, এফবিসিসিআইসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ।
