বিএনপি মহানগরীর নতুন কমিটির আহবায়ক মির্জা আব্বাস দাবি করেছেন, বিএনপিতে ’মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকা গ্রুপ’ বলতে কিছু নেই। তিনি বলেন, আব্বাস বা খোকা গ্রুপ বলতে আমরা যা শুনি তা কেউ কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বলে থাকে। বিএনপিতে একটি মাত্র গ্রুপ বিদ্যমান। তা হচ্ছে খালেদা জিয়া গ্রুপ। এছাড়া বিএনপিতে কোনো গ্রুপ বা গ্রুপিং নেই ।
গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে মহানগর বিএনপি কার্যালয় ভাসানী ভবনে মহানগর বিএনপির নবঘোষিত কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে ব্রীিফিং এ তিনি এ দাবি করেন। এ সময় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল, কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়, যুগ্ম আহবায়ক আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লাহ বুলু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কাজী আবুল বাশার, নাসির উদ্দিন অসীম, শেখ রবিউল আলম রবি, বোরহানুজ্জামান ওমর, আরিফুল রহমান নাদিমসহ মোট ৩৭ জন মহানগর নেতা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, খালেদা জিয়া কমিটি ঘোষণা করেছেন বিএনপি ঢাকা মহানগরের। আওয়ামী লীগের নয়। অথচ আমাদের কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগের চোখে ঘুম নেই। তবে, মনে হয় এই কমিটি সত্যি সত্যি তাদের চোখের ঘুম কেড়ে নেবে বলেই তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
আব্বাস বলেন, ঈদের পর খালেদা জিয়া ঘোষিত আন্দোলন হবে। আমরা আন্দোলন করবো। তবে আন্দোলন মানে তো আওয়ামী লীগের মতো লাঠি নিয়ে রাজপথে নেমে পড়া নয়। হাবিব উন-নবী খান সোহেল বলেন, মির্জা আব্বাস আমার বড় ভাই। আমি তার ছোট ভাই। আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। দলে মতবিরোধ থাকতে পারে। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। কিন্তু বিএনপিতে কোন দ্বন্দ্ব বা গ্রুপিং নেই।
বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন কমিটির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, সভার আলোচ্য বিষয়গুলো হলো: ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল নিঃসন্দেহে তা বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও সে তুলনায় ঢাকায় আন্দোলন জমে উঠেনি। তাই ঢাকা মহানগর নেতৃত্বকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব উঠে। সেই আলোকে খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্দোলনকে সুসংহত ও দলকে সুসংগঠিত করতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে সভার পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানানো হয়। সভায় সরকারের ‘নির্যাতন-নিপীড়নে’ যেসব নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা, আহতদের আশু সুস্থতা কামনা, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ সারাদেশের নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহার ও কারাবন্দিদের মুক্তি দাবি করা হয়।
