টানেলের শেষে

আপডেট : ৩০ মে ২০১৯, ২০:০৯

জাগরণে আমি তাকে ডাকি মেঘ— বৃষ্টি হয়ে ঝরুক না সে টিনের চালে। আমার কি তবে বৃষ্টির সঙ্গে দেখা হয়, দেখা হবে কোনো কালে? বৃষ্টি, আহা প্রিয় বৃষ্টি। বিষাদ সমগ্র বুকে নিয়ে সে তো এখন কেবল শুয়ে থাকে পৃথিবীর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর শীতকালে। আমার চোখের সামনে বর্ষাগুলো হারিয়ে যায়, নদীরা শুকিয়ে মরে প্রাগৈতিহাসিক অন্ধকারে।

 

সবুজ মাঠের পাশ দিয়ে আকাশের নীল বুকে শাড়ির পাড়ের মতো বয়ে যেত নদী। দুই তীরে নুয়েপড়া বরুনের ডালে নকশার মতো পাখির কাকলি। নদীও যে কারো দীর্ঘশ্বাসের নাম হয় তখনও বুঝিনি। জলগামী রাজহাঁসও মাঝে মাঝে করে হাঁসফাঁস, বুঝিনি তাও। মুহূর্তেই ফণা তোলে জলশঙ্খিনী সাপ। অন্ধকার রাতে দূরের তারাদের সাথে শুয়ে শুয়ে পাখিও হারায় উড়ালের কারুকাজ। সমস্ত শব্দের শেষে আজ কথা বলে যায় অন্ধকার। সবকিছু হাহাকার নয়, পরাজয় নয়। যখন পাতালগামী ট্রেনের হুইসেলে নিস্তব্ধতা ভেঙে খান খান, কে তখন কথা বলে ওঠে টানেলের শেষে আধো আলো আধো অন্ধকারে।