লাইলাতুল ক্বদর ও জুমাতুল বিদা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৪, ২১:২৪
আজ দিবাগত রাত্রি সারা মুসলিম জাহানে ‘লাইলাতুল ক্বদর’ হিসাবে পরিচিত। মোবারকময় এই রাত্রিকে স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা কুরআনুল করীমে সবিশেষ মর্যাদাপূর্ণ বলিয়া ঘোষণা করেন। এই উপলক্ষে অবতীর্ণ করিয়াছেন একটি পরিপূর্ণ সূরা—সূরাতুল ক্বদর। সেই সূরায় তিনি ইরশাদ করেন, ‘ইন্না আনযালনাহু ফি লাইলাতিল ক্বদর’—অর্থাত্ আমি ইহা (মহাগ্রন্থ আল কুরআন) ক্বদরের রাত্রেই অবতীর্ণ করিয়াছি। বিভিন্ন রেওয়ায়েত হইতে জানা যায়, লওহে মাহফুজ হইতে এই রাত্রেই কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ হয় সর্বনিম্ন আসমানে। অতঃপর গোটা ২৩ বত্সরে প্রয়োজনমত ও পর্যায়ক্রমে প্রিয়নবী (স.)-এর নিকট নাজিল হয়। ইহা সর্বমানবের জীবন দর্শন স্বরূপ। লাইলাতুল ক্বদরের ফজিলত ইহার কারণেই বেশি। তাহাছাড়া এই রাত্রি সম্পর্কে আল্লাহ তা’য়ালা ঐ সূরার পরবর্তী আয়াতে বলেন, ‘লাইলাতুল ক্বদরি খয়রুম মিন আলফি শাহ্র’। অর্থ:ক্বদরের রাত্রি সহস্র মাস হইতে উত্তম। অর্থাত্ উম্মতে মুহাম্মদী (স.) স্বল্পায়ুর অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এই রাত্রির ইবাদত-বন্দেগি দিয়া অনেক বেশি সওয়াব অর্জনের সুযোগ লাভ করিতে পারেন। লাইলাতুল ক্বদর উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য আল্লাহ তা’য়ালার এক বিশেষ নিয়ামত। কেননা এই পুণ্যময় রাত্রে ঊষার আগমন পর্যন্ত তাঁহার রহমত অবিরাম ধারায় বর্ষিত হইতে থাকে। আল্লাহর নির্দেশে হযরত জিব্রাইল (আ.) ফিরিশতাদের সঙ্গে লইয়া সিদরাতুল মুনতাহা হইতে এই ধূলির ধরায় নামিয়া আসেন। ঈমানদার-মুত্তাকি, গুনাহ্গার ও মাইয়েত-মাইয়েতা সকলের জন্যই থাকে কোন না কোন সুসংবাদ। এই রাত্রির বন্দেগি কখনও বৃথা যায় না। এ সময় নফল নামাজ ও তসবীহ-তাহলিলের পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াতে অধিক মনোনিবেশ করা উচিত। অর্থসহ কুরআন পড়িয়া আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করিতে পারিলে এই রাত্রে কুরআন নাজিলের সার্থকতা পরিপূর্ণ হয়। লাইলাতুল ক্বদরের পাশাপাশি আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা। অর্থাত্ মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার। এমনিতেই মুসলমানদের নিকট প্রতিটি জুমার দিনই অনেক তাত্পর্যপূর্ণ। প্রতিটি জুমার দিন এক একটি ঈদ স্বরূপ। অন্যদিকে পবিত্র রমজান মাসে যেকোন ইবাদত-বন্দেগির ফজিলত বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এই হিসাবে বিশ্ব মুসলিম জুমাতুল বিদাকে অনেক গুরুত্ব দিয়া থাকেন। তাহাছাড়া জুমার দিনের একটি বিশেষ মুহূর্তে দোয়া কবুল হয়। সেই সময়টা হইতেছে খতিবের মিম্বরে উপবেশন করার পর হইতে ফরজ নামাজের সালাম ফেরানো পর্যন্ত। জুমাতুল বিদার দিনে এ ব্যাপারে তাই সচেতন থাকা বাঞ্ছনীয়। এসব বিবেচনায় লাইলাতুল ক্বদর ও জুমাতুল বিদার সহিত সিয়াম পালনকারীদের ধর্মীয় আবেগ ও অনুভূতি জড়িত। ইহার মাধ্যমে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানুল মুবারকের বিদায়ের সুর বাজিয়া ওঠে। এজন্য এই দিনে বিশেষ দোয়া করা হয়। মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার মুসলিম দেশসমূহে ‘আল কুদস’ দিবস হিসাবেও পালিত হইয়া থাকে। পবিত্র নগরী জেরুজালেমের ওপর ফিলিস্তিনের মুসলমানদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক এই দিবস। বর্তমানে সেখানে ইসরাইলি আগ্রাসন চলিতেছে। এই কুদস দিবসও জুমাতুল বিদার তাত্পর্যকে নতুন মাত্রা দান করিয়াছে। যাহা হউক, পবিত্র এই মাসের সিয়াম সাধনা, যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগি আল্লাহ কবুল করুন। আমাদের ক্ষমা করুন। লাইলাতুল ক্বদর ও জুমাতুল বিদার দিনে ইহাই আমাদের আন্তরিক প্রার্থনা।