বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৪ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। শিরোপা অর্জন করেছে জার্মানি। বিশ্বকাপ ফুটবলে সবসময় যে সর্বশ্রেষ্ঠ দু’টি দল ফাইনালে ওঠে, তা নয়। ফাইনালে উঠতে হলে ভাগ্যের সহায়তাও একটি বড় বিষয়। এতে ভালো খেলেও পরাজিত হবার ঘটনাও যথেষ্ট। এবারের মতো বিগত বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অনেক সময় অনেক অসঙ্গতি চোখে পড়ে। যেমন ফাউল হলেও না ধরা অথবা ফাউল বলে গণ্য না হলেও ফাউল ধরা। লঘুপাপে গুরুদণ্ড অথবা গুরুপাপে লঘুদণ্ড ইত্যাদি। এবারের বিশ্বকাপে শরীরে কামড় দেবার ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্বকাপ ফুটবলে রেফারির একটি ভুল সিদ্ধান্ত ফলাফল সম্পূর্ণ পালটে দিতে পারে। ক্রিকেটেও একই কথা প্রযোজ্য। তবে এবারের বিশ্বকাপে গোল নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। আগে কোনো বল গোলপোস্ট ভেদ করে জালে না জড়িয়ে ফিরে এলে অনেক সময় গোল দেওয়া হতো না। কারণ রেফারি বিভ্রমে পড়তেন— যদিও রিপ্লেতে পরিষ্কারভাবে গোল হয়েছে দেখা যেতো। এবার নতুন প্রযুক্তি ব্যবহূত হওয়ায় এর অবসান ঘটেছে বলা যায়।
আমাদের দেশবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা— কবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে সুযোগ পাবে? শুধু বাংলাদেশ নয়, সার্ক তথা দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশই অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে বলে মনে হয় না। কারণ দক্ষতা তথা কলাকৌশলগতভাবে তারা এখনও অনেক পিছিয়ে। সার্ক তথা দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে ৮টি দেশ রয়েছে। এতদাঞ্চলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে আফগানিস্তান এবং রানার্স-আপ ভারত। সার্ক দেশসমূহের সেরা খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হলে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের সুযোগ তথা সাফল্য লাভের সম্ভাবনা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এতে দৈহিক গঠনের কারণে আক্রমণভাগে আফগান খেলোয়াড় এবং রক্ষণভাগে বাংলাদেশ ও ভারতের খেলোয়াড় তথা অন্য অবস্থানে বাকি দেশসমূহের খেলোয়াড়দের সমন্বয় করা যেতে পারে। দলটির নামকরণ করা যেতে পারে ‘সার্ক টিম’ বা ‘দক্ষিণ এশিয়া টিম’।
অনুরূপক্ষেত্রে ‘ফিফার’ অনুমোদনের প্রশ্ন আসতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ও ইউরো-ফুটবলে স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলস সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে— যদিও এ দু’টি অঞ্চল গ্রেটবৃটেন তথা যুক্তরাজ্যের দু’টি অঙ্গরাজ্য এবং সীমিত স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে। অপর অঞ্চল ইংল্যান্ডের সঙ্গে তারা কখনো একসঙ্গে অংশগ্রহণ করে না। বিশ্বকাপ ক্রিকেটেও স্কটল্যান্ডের জাতীয় দল সুপরিচিত। অন্যদিকে কয়েকটি দেশের সমম্বয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল গঠিত। যা হোক, পরবর্তী সময়ে দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের বিশ্বকাপ ফুটবলে স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণের কথা বিবেচনা করতে পারে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশসহ সার্কসংশ্লিষ্ট সকল ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
খালিক মাশরেকী, শ্রীপুর, গাজীপুর
